তসলিমা নাসরিনের লেখা সিরিয়াল সম্প্রচার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

  • ১৮ ডিসেম্বর ২০১৩

বিতর্কিত বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের গল্পকে কেন্দ্র করে যে টেলিভিশন সিরিয়ালটি আগামী কাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের একটি চ্যানেলে সম্প্রচারিত হওয়ার কথা ছিল, তা অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দিতে চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।

চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বলছে এর ফলে সিরিয়ালটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল।

আকাশ আট নামের ওই চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে কলকাতা পুলিশ আজ জানিয়ে দেয় যে তসলিমা নাসরিনের গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে তৈরী ‘দু:সহবাস নামের সিরিয়ালটির সম্প্রচার কাল থেকে করা যাবে না। কতদিন সম্প্রচার করা যাবে না, সেটাও নির্দিষ্ট করে বলা হয় নি।

একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয় যে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ যদি পুলিশের কথা না শুনে সিরিয়ালটি চালু করে দেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ এফ আই আর করবে।

গোটা বিষয়টা পুলিশ কোনও চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবেও জানাতে চায় নি।

পুলিশ সূত্রগুলো বলছে যে কয়েকটি মুসলিম সংগঠন পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেছিল যে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের লেখা ওই সিরিয়ালটি সম্প্রচারিত হলে তার মধ্যে ইসলাম বিরোধী কথাবার্তা থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

আর সেটা মুসলমানদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করতে পারে – আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে। তাই সিরিয়ালটি সম্প্রচার বন্ধে ব্যবস্থা নিক পুলিশ।

সিরিয়ালটি বন্ধ করতে বেশ কয়েকজন মুসলিম রাজনীতিবিদও তদবির করছিলেন। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে প্রায় ছয়বছর আগে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল। তাঁর লেখাকে কেন্দ্র করে শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় দাঙ্গা ছড়িয়েছিল – নামাতে হয়েছিল সেনাবাহিনী।

সেই দাঙ্গা বাধানোর অভিযোগ যে রাজনীতিবিদ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন, তিনি এখন ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু নেতা আর তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মিজ. নাসরিনকে কলকাতায় ফিরে আসতে দিতে নারাজ।

আকাশ আট চ্যানেলের অন্যতম পরিচালক ঈশিতা সুরানা বিবিসি-কে বলেছেন যে সিরিয়ালটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। বিস্তারিত জানাতে চান নি তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের মতো কয়েকটি সংগঠন সিরিয়ালটি সম্প্রচারের বিরোধীতা করছে, তেমনই অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম এসোসিয়েশন বলছে কোনও সিরিয়াল সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়াটা তালেবানদের মতো আচরন।

সংগঠনটি বলছে, যেহেতু মিজ. নাসরিন একজন বিতর্কিত লেখিকা, তাই তাঁর লেখা নিয়ে তৈরী সিরিয়ালের বিরোধীতা করে প্রচারের আলো পেতে চাইছেন কয়েকজন ধর্মীয় নেতা।