বিশ্বজিৎ হত্যায় ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড

Image caption ফাইল ফটো

বাংলাদেশে প্রায় এক বছর আগে বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচির সময় পুরনো ঢাকায় পথচারী বিশ্বজিৎ দাসকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মামলার রায়ে আজ ঢাকার একটি আদালত আট জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

একই সঙ্গে আরও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক এ বি এম নিজামুল হক।

আসামীদের সবাই ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

আদালতে রায়ের মূল অংশে যাওয়ার আগে বিচারক একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সেই পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মানুষের জীবন যাতে বিপন্ন না হয়, সে জন্য কর্মসূচির পক্ষ, বিপক্ষ সকলকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বাদী বা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ফাঁসির রায় পাওয়ার পাশাপাশি তারা আদালতের পর্যবেক্ষণকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

তিনি বলেন, আদালত এই মর্মে অবজারভেশন দিয়েছে যে, এই জাতীয় ঘটনা যদি ঘটতে থাকে তাহলে অদূর ভবিষ্যতে দেশ এবং জাতির এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আদালত এ ধরনের রায় দিয়েছেন।

বিশ্বজিৎ দাসের বড় ভাই উত্তম কুমার দাস রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "আমরা রায়ে মোটমুটি সন্তুষ্ট। আর আমাদের একটা দাবি, যাদেরকে এখনও গেপ্তার করা হয়নি, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক"।

আসামীদের আইনজীবীরা অবশ্য এই রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ফাঁসির আদেশ প্রাপ্তদের অন্যতম আইনজীবী মিজানুর রহমান মোল্লা আপিল করার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, "এই আসামীদের তো এরকম সাজা হওয়ার কথা না। তো এটার জন্য আমি হাইকোর্টে যেতে চাই। কারণ হাইকোর্টে গেলে মামলাটি রাইটলি বিবেচনা করবেন। তখন আসামীরা খালাস পাবে বলে আমি মনে করি"।

তিনি আরও বলেন, "এ মামলায় ডাইরেক্ট এভিডেন্স নাই। প্রসিকিউশন কোন্ জিনিসটা প্রমাণ করতে পেরেছেন? এটা মনগড়া একটা রায় বা এটি ভুল করে অথবা যেকোনোভাবে হয়েছে"।

গত বছরের ৯ই ডিসেম্বর বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে বিশ্বজিৎ দাসকে পেটানো ও কোপানো হয়। বাঁচার জন্য দৌড় দিলে তিনি শাঁখারীবাজারের রাস্তার মুখে পড়ে যান। একজন রিকশাচালক তাঁকে রিকশায় তুলে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক বিশ্বজিৎকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার সাথে জড়িতরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

হত্যার ঘটনায় ওই রাতে সূত্রাপুর থানায় মামলা করে পুলিশ। পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপর সাত জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়।

তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৫ই মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২১ জন কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। ২৬শে মে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

আসামিদের মধ্যে আটজন রফিকুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান, রাশেদুজ্জামান, কাইয়ুম মিয়া, এস এম কিবরিয়া, এমদাদুল হক, সাইফুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা কারাগারে আটক আছেন।

বাকি ১৩ জন আসামি—রাজন তালুকদার, ইউনুস আলী, আজিজুল হক, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, মীর মো. নূরে আলম, আল আমিন শেখ, মনিরুল হক, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন পলাতক রয়েছেন।