টানা অবরোধে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থের সংকট

  • ২৩ ডিসেম্বর ২০১৩

বাংলাদেশে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিরোধী জোটের দফায় দফায় অবরোধ কর্মসূচির ফলে সারাদেশে ব্যাংকের নগদ অর্থ লেন-দেন মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে।

বিশেষ করে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেসব ব্যাংকের শাখা রয়েছে, সেখানে নগদ অর্থের অভাবে গ্রাহকদের সেবা দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেও স্থানীয় ব্যাংকগুলোতে টাকার সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে শুক্রবার ছুটির দিনেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খোলা রাখার পরেও খুব একটা উন্নতি হয়নি।

বরিশালের বাকেরগঞ্চ উপজেলার কাকড়দা গ্রামে জনতা ব্যাংকের একটি শাখায় গত তিন সপ্তাহ ধরে চলছে নগদ টাকার সংকট।

বরিশাল সদরে ব্যাংকটির প্রধান শাখা থেকে মূলত নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়। তবে বিরোধী জোটের ডাকে টানা পঞ্চম দফার অবরোধের কারণে ব্যহত হচ্ছে ব্যাংকটির গ্রাহক সেবা।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সগির বলছিলেন গ্রাহকদের তাৎক্ষনিক ভাবে অর্থ দিতে না পারায় বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

মি. সগির বলছিলেন ব্যাংকের তারল্যের সংকট কিছুটা সামাল দেওয়ার জন্য তিনি সহ তার শাখার কয়েকজন গত মাসের বেতন তোলেন নি।

Image caption অনেক ক্যাশ মেশিনেও টাকা নেই

সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা বিয়ানী বাজারের বাসিন্দাদের মধ্যে কর্মসূত্রে বেশির ভাগই থাকেন বিশ্বের নানা দেশে।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মরত এসব নাগরিকরা তাদের পরিবারের কাছে যে টাকা পাঠান সেটা তুলতে অনেক ক্ষেত্রে গোপন একটি নম্বরের ভিত্তিতে ব্যাংক তাৎক্ষনিক টাকা দিয়ে থাকে।

বিয়ানী বাজারের বেসরকারি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়ার প্রধান শাফির আহমেদ চৌধুরী বলছিলেন এলাকাটিতে ব্যবসা বাণিজ্য খুব একটা গড়ে না ওঠার কারণে তারল্যের প্রবাহ কম।

আর টানা অবরোধের কারণে গত দেড় মাস ধরে তারা বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের প্রেরিত রেমিটেন্সে তাদের পরিবারের কাছে দিতে তাৎক্ষনিকভাবে দিতে পারছেন না।

বাংলাদেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকের এই শাখা গুলো সাধারণত জেলা শহরের তাদের মূল শাখা থেকে অর্থ সরবরাহ করে থাকেন।

তবে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে ব্যাংকের শাখা ও এটিএম বুথ গুলো ভাংচুরের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন এসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক বিশ্বজিত রায় বলছিলেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা বলা হলেও বিভিন্ন ধরনের হামলার আশঙ্কায় তারা প্রধান শাখা থেকে টাকা তুলতে পারছেন না।

একই সাথে গ্রাহকদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অনেকেই ব্যাংকে টাকা জমা রাখার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছেন।

এদিকে টানা অবরোধে ব্যাংকিং খাতে অর্থ আদান প্রদান ব্যহত হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী গত দুটি শুক্রবার ছুটির দিনেও তফসিলি ব্যাংকগুলোর সব শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলছিলেন অবরোধের কারণে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় টাকা নেয়ার ক্ষেত্রে যেসব ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে সে ক্ষেত্রে শুক্রবারেই এই অর্থের সরবরাহ করে সাময়িক এই সমস্যার সময় গ্রাহকদের সেবা প্রদান করা ছাড়া আপাতত তাদের কিছু করার নেই।