নির্বাচন বর্জনের ডাক, প্রতিহত করার চেষ্টায় বিএনপি

  • ৪ জানুয়ারি ২০১৪
bd_hartal_bnp_dhaka
Image caption শনিবার হরতালের সময় ঢাকার রাস্তা

বাংলাদেশে রোববারের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ১৮দলীয় বিরোধীজোটের দুদিনের এক হরতাল আজ থেকে শুরু হয়েছে। হরতালের আগে রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুলভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। হরতালের সময় লালমনিরহাটে একজন বিরোধীদলীয় সমর্থক নিহত হয়েছেন।

প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া গতকাল এক বিবৃতিতে নির্বাচন বর্জন করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আজ এক ভিডিও বার্তায় তার ভাষায় 'এই প্রহসনের নির্বাচন বর্জন' করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলোদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সংকট চলছে। বিরোধীদলের ডাকা অবরোধ ও হরতাল কর্মসুচির সময় ঘটেছে ব্যাপক সহিংসতা।

প্রধান বিরোধীদল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিল - যা সরকার মেনে নেয় নি।

প্রধান বিরোধীদলগুলো এ নির্বাচন বয়কট করার ফলে তিনশ আসনের জাতীয় সংসদের অর্ধেকের বেশি আসনেই প্রার্থী মাত্র একজন হওয়ায় ভোটগ্রহণের আগেই তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া নিশ্চিত হয়ে গেছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই বিরোধীদল বলে আসছিল, একতরফা নির্বাচন প্রতিহত করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, এ জন্য এলাকাভিত্তিক সংগ্রাম কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ প্রকাশিত ২২ মিনিটের ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান বলেন, 'কোন নির্দেশনার অপেক্ষা না করে' এবং 'সর্বশক্তি দিয়ে' সবাই মিলে 'এই সরকার ও প্রহসনের নির্বাচনকে প্রতিহত করার' সময় এসেছে।

Image caption ভিডিও বার্তায় তারেক রহমান

আগামীকালের ভোট গ্রহণ ঠেকাতে বিএনপির পরিকল্পনা বা কৌশল আসলে কি? রোববারের এই বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শতাধিক ভোট কেন্দ্রে আগুন দেয়া হয়েছে।

বিএনপির নেতারা অবশ্য বলছেন, তারা এসব অগ্নিসংযোগের সাথে জড়িত নন, বরং এগুলো ক্ষুব্ধ জনগণের রোষের প্রতিফলন।

ফেনী জেলা বিএনপির নেতা আবু তাহের বলছেন, আমাদের এলাকাভিত্তিক কমিটিগুলো কাজ করছে, আশা করছি নির্বাচন প্রতিহত করতে আমরা সক্ষম হবো।

উত্তরাঞ্চলের যে জেলায় বিএনপি শক্তিশালী বলে মানা হয়, সেই বগুড়ার একজন বিএনপি নেতা বলেন, ভোট বর্জনের জন্য শুধু ভোটারদের আহ্বান জানানোই নয়, নির্বাচন প্রতিহত করার জন্যও সব চেষ্টাই করব্নে তারা।

তিনি বলেন, হরতালের মতোই রাস্তায় প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে, মিটিং-মিছিল করে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করা হবে। ভোটারদের নিরুৎসাহিত করার জন্য গণতান্ত্রিক পন্থাই ব্যবহার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দক্ষিণাঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলার বিএনপি নেতা রহমতউল্লাহ বলছিলেন, ওই জেলায় পরিস্থিতি এখন যেমন তাতে এমনিতেই ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন না। জনগণই এ নির্বাচন প্রতিহত করবে , তাদের দলের তেমন কিছুই করতে হবে না।

একজন নেতা বলেন, জনগণ এ নির্বাচন গ্রহণ করে নি, সরকারকে তা প্রণিধান করতে হবে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, ভোটারদের নিরুৎসাহিত করতে তারা প্রচারপত্রও বিলি করেছেন।