দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা কি করছেন এবার

  • ৪ জানুয়ারি ২০১৪
elex preparation
Image caption ভোটের প্রস্তুতি

বাংলাদেশে আর কয়েক ঘন্টা পরেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অথচ এবার কোন বিদেশী পর্যবেক্ষক নেই।

বিরোধীদল নির্বাচনে নেই, দেশজুড়ে চলছে বিরোধীজোটের ডাকা টানা অবরোধ ও হরতাল, অব্যাহত রয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা। দেয়া হয়েছে নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা।

এ অবস্থায় দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো কি করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ ছাড়াও বিদেশী প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো আগেই বলেছে তারা এবারের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবেনা।

এ নির্বাচন কাভার করতে ঢাকায় এসেছেন মুষ্টিমেয় কিছু বিদেশী সাংবাদিক।

তবে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান এস এম আসাদুজ্জামান বলেছেন বিশ হাজারেরও বেশি দেশীয় পর্যবেক্ষক সারাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

তিনি বলেন, "ভুটান ও ভারত থেকে দুজন করে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা নির্বাচন দেখতে এসেছেন। এছাড়া দেশীয় ৩৪টি সংস্থার প্রায় ২০ হাজার পর্যবেক্ষক নির্বাচনের দিন মাঠে থাকবেন"।

তবে দেশীয় অন্যতম প্রধান পর্যবেক্ষন সংস্থা জানিপপ এর চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেছেন, ব্যাপক ভিত্তিক পর্যবেক্ষণের পরিবর্তে তারা সীমিত আকারে এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নেই, এবং সেটি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার একটি বড় কারন।

তিনি বলেন, "সীমিত আকারে পর্যবেক্ষন করছি। কারন তিনশ আসনে নির্বাচন হচ্ছেনা, ১৪৭ আসনে হচ্ছে। এ নির্বাচন ব্যাপক অংশগ্রহণভিত্তিক হচ্ছে না। তাছাড়া সহিংসতার মাত্রা নির্বাচনে আগে ব্যাপকতর হয়েছে। "

ফেমা বাংলাদেশের আরেকটি প্রধান সংস্থা যারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষনের সাথে জড়িত। তবে ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া যায়নি বলে তারা নির্বাচন ব্যাপক পরিসরে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেননা।

সংস্থার সংগে যুক্ত পর্যবেক্ষকদের কোন ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, "প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কিছু সদস্য আছেন। তারা নিজেদের ঝুঁকি না নিয়ে পর্যবেক্ষনের জন্য পরিচয়পত্র নিয়েছেন। তারা কিছু রিপোর্ট করেছেন। কিন্তু সেটি ব্যাপকভাবে কিছু হবে বলে মনে হয়না"।

তবে ফেমার সঙ্গে যুক্ত সাতক্ষীরার এম কামরুজ্জামান বলছিলেন, নির্বাচনে কাজ করার জন্য এবার তারা কেন্দ্রীয় ভাবে কোন নির্দেশনা পাননি।

তিনি বলেন, "আমরা প্রতিবছর নির্বাচন পর্যবেক্ষন করি। কিন্তু এবার কেন্দ্র থেকে কোন নির্দেশ পাইনি। আমার জানামতে অন্য কোন সংস্থাও নির্বাচনটি পর্যবেক্ষন করছেনা।"

আরও অনেকগুলো সংস্থা নির্বাচন কমিশন থেকে পর্যবেক্ষনের অনুমোদন নিলেও আইন শৃংখলা পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তারা কতটুকু সফল হবেন তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।