বাংলাদেশে জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন

  • ১২ জানুয়ারি ২০১৪
cabine taking oath
Image caption বঙ্গভবনে মন্ত্রীসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রীসভার ৪৯ জন সদস্য আজ বঙ্গভবনে শপথ নিয়েছেন।

নবনির্বাচিত দশম সংসদে জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি বিরোধীদল হিসেবে ভূমিকা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারেও রয়েছে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী প্রায় সব দল থেকেই মন্ত্রী করা হয়েছে।

তবে ঐক্যমত্যের সরকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৯৬ সালেও তাঁর নেতৃত্বে সরকারে বিরোধীদলসহ বিভিন্ন দল থেকে মন্ত্রী করে জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠন করা হয়েছিল।

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি এডভোকেট আব্দুল হামিদ। বঙ্গভবনে একই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী সভার সদস্যদেরও শপথ পড়িয়েছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছে। সেই জোটকে বাইরে রেখে নতুন সংসদ এবং সরকার কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে।

তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে ঐ প্রশ্ন উঠেছিল। জবাবে তিনি আবারও শর্তসাপেক্ষে আলোচনার কথা বলেছেন।

তিনি বলেছেন, “হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দিয়ে মানুষ হত্যা এবং সব ধরণের নাশকতা বন্ধ করতে হবে। জামায়াতের সঙ্গ তাদের ছাড়তে হবে। তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমরা যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারি। এতে আমাদের কোন সমস্যা নেই।”

নবনির্বাচিত দশম সংসদে জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেত্রী হয়েছেন। আর জেনারেল এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত করা হয়েছে।

নির্বাচনের আগে বার বার দলীয় অবস্থান পরিবর্তনের কথা বলে জেনারেল এরশাদ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। শেষপর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে সরকার বলে আসছিল।

শপথ অনুষ্ঠানে জেনারেল এরশাদ উপস্থিত হলে বঙ্গভবনে অতিথিদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায় এবং অনেকে আবার হাততালি দিয়েও স্বাগত জানান। তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করেননি।

বিরোধীদলে থাকার পাশাপাশি জাতীয় পার্টি থেকে একজন মন্ত্রী এবং দু’জন প্রতি মন্ত্রীও হয়েছেন। এমনই একজন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, একইসাথে দু’ধরণের ভূমিকা নেওয়াটা জাতীয় পার্টির জন্য পরস্পরবিরোধী কিছু হবে না বলে তারা মনে করেন।

আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জাসদ এবং ওয়ার্কার্স পার্টি থেকেও মন্ত্রী হয়েছেন। এর আগেও আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকারে শরিক দলগুলো থেকে মন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু জাতীয় পার্টি বিরোধীদলের পাশাপাশি মন্ত্রিত্ব নেওয়ায় নতুন সরকারের কাঠামো বা চেহারা নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে।

এটাকে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার হিসেবে বর্ণনা করছেন আওয়ামীলীগের নেতারা।

শেখ হাসিনা বলছিলেন, “ ২১ বছর পর যখন ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ আবার ক্ষমতায় ছিল, তখন বিরোধীদল এবং অন্যান্য দল থেকে সবাইকে নিয়ে আমি ঐকমত্যের সরকার গঠন করেছিলাম। আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, এ দৃষ্টান্ত নতুন নয়। এ দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে আমিই সৃষ্টি করেছিলাম ৯৬ সালে। কারণ আমরা দেশের উন্নয়ন চাই সকলকে নিয়ে। আপনারা একদিকে বলবেন ,সকলকে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। আবার একসাথে কাজ করলে প্রশ্ন তুলবেন। সেটাতো ঠিক নয়।” এদিকে, আওয়ামীলীগের এর আগের সরকারে সিনিয়র অনেক নেতার অবস্থান ছিল না।

এবার মন্ত্রীসভায় তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমুসহ সিনিয়র নেতারা প্রধান্য পেয়েছেন। কিন্তু আগের সরকারে দিপুমণি ,ফারুক খান, হাসান মাহমুদসহ অনেক নতুন মুখ ,যাদেরকে সামনে আনা হয়েছিল। তারা এবার বাদ পড়েছেন

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, “গত মন্ত্রী সভায় যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে নাই, তাদেরকে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বাদ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কঠোরভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা শিক্ষা। এটা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়।”

বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ সব দেশের বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মোজেনা বলেছেন, এখন সব দল আলোচনা করে সব দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে বলে তারা আশা করেন।