সরকার অবৈধ, তবে সংলাপ চাই : খালেদা জিয়া

  • ১৫ জানুয়ারি ২০১৪
Image caption বক্তব্য রাখছেন খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে অবৈধ বলে অভিহিত করলেও দ্রুত সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ এ সরকারকে ভোট দেয়নি, সে কারণে সরকারকে দীর্ঘ সময় থাকতে দেওয়া যাবে না।

একইসাথে তিনি ২০শে জানুয়ারি ঢাকাসহ সারাদেশে সমাবেশ এবং ২৯শে জানুয়ারি দেশব্যাপী বিক্ষোভ দিবস ও কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছেন।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আগেই হরতাল অবরোধের লাগাতার কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সেই নির্বাচন নিয়ে এই প্রথম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে রয়েছে ২০শে জানুয়ারি সারা দেশে গণ সমাবেশ এবং ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় সমাবেশ।

কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ই জানুয়ারি সারা দেশে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মদিন পালন। ২৯শে জানুয়ারি সারা দেশে বিক্ষোভ দিবস ও শান্তিপূর্ণ কালো পতাকা মিছিল।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে নানান অভিযোগ।

তিনি বলেছেন, ঐ নির্বাচনে ৫ শতাংশ মানুষও ভোট দেয়নি। জনগণ নিরব প্রতিবাদ জানিয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। নির্বাচনে বড় অংশের ভোটার অংশ না নেয়ার বিষয়কে বিএনপি নেত্রী তাদের বিজয় হিসেবে দেখছেন।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে আন্দোলনরত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। এখন সেই নির্বাচনে গঠিত আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে অবৈধ বলে বর্ননা করেছেন খালেদা জিয়া। একই সাথে তিনি নতুন সরকারের প্রতি সংলাপের উদ্যোগ নিতে বলেছেন।

তিনি বলেছেন, “দেশে গণতন্ত্র এখন মৃত। বর্তমান সংসদ জনপ্রতিনিধিত্বহীন। এবং দেম পরিচালনার ব্যাপারে সরকারের পিছনে জনগণের অনুমোদন নেই। কাজেই এই সরকার বৈধ সরকার নয়। এমন একটি অবৈধ সরকার দীর্ঘায়িত হওয়া খুবই বিপদজনক। তাই অনতিবিলম্বে এই বিপদজনক সরকারকে সরিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্টার জন্য পুনরায় সমঝোতা এবং সংলাপের আহবান জানাচ্ছি।”

নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি দু কুল হারিয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার প্রতি ইঙ্গিত করেন খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা কুল হারাইনি। জনগণ থেকে যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে তারাই কুল হারিয়েছে”।

মিসেস জিয়া তার দল ক্ষমতায় আসলে কি করবেন সে সম্পর্কে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন এবং বলে গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ড মুহম্মদ ইউনুসকে যথাযথ মর্যাদা তারা দেবেন।

কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য বিএনপি নেত্রী তাদের নেতা কর্মীদের মুক্তিকে শর্ত হিসেবে দিয়েছেন। আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকেও বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার শর্ত তুলে ধরা হয়েছিলো। এই প্রশ্নও উঠেছিল সংবাদ সম্মেলনে। এর জবাবে খালেদা জিয়া অতীতে আওয়ামীলীগের সাথে জামায়াতের আন্দোলনের বিষয়কে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি নেত্রী এ জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। একইসাথে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

খালেদা জিয়া লিখিত বক্তব্যের পর কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি এবং এর জোটের অন্য নেতাদের দেখা গেলেও দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন না। বিএনপি নেতার বলেছেন, মামলা থাকায় মি; আলমগীর সংবাদসম্মেলনে ছিলেন না।