মালয়েশিয়ায় ধরা পড়েছে আড়াইশো বাংলাদেশি

  • ২১ জানুয়ারি ২০১৪

মালয়েশিয়ার অবৈধভাবে বসবাসরত শ্রমিকদের ধরতে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে সেদেশের সরকার ।

বাংলাদেশ, নেপাল ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় লাখখানেক অবৈধ শ্রমিক মালয়েশিয়ায় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

মালয়েশিয়ার সরকারি গণমাধ্যম বলছে, এ পর্যন্ত দেড় হাজার শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে আড়াইশরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলছেন, অবৈধ শ্রমিকদের জন্য আর কোন সুযোগ তারা চাইবেন না।

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর প্রদেশ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, সেখানকার একটি নির্মাণ কাজ দেশটির পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। সেখানকার শ্রমিকরা আতংকে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে আছেন।

কিন্তু কিছু শ্রমিককে তিনি দেখতে পেয়েছেন যাদের হাতে ইংরেজিতে ‘ওকে’ অর্থাৎ ‘ঠিক আছে’ লেখা যার অর্থ হলো এসব শ্রমিকদের কাগজপত্র ঠিক আছে এবং এরা মালয়েশিয়ার বৈধ শ্রমিক। মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিক ধরার অভিযান যথেষ্ট কঠিন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের ডিরেক্টর জেনারেল দাতুক সেরি অ্যালিয়াস।

এদিকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্যমতে, সেদেশে যেসব বাংলাদেশী অবৈধ শ্রমিক রয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকেই ট্যুরিস্ট ভিসা বা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে সেখানে গেছেন ও ভিসার মেয়াদ শেষ হবার পরও রয়ে গেছেন।

তেমনই একজন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম যিনি মাত্র চার মাস আগে মালয়েশিয়ায় গেছেন সেখানে স্থায়ীভাবে বাস করার উদ্দেশ্য নিয়ে।

বিবিসিকে তিনি জানান, চার মাসে কোন এজেন্টের মাধ্যমে কাগজ হয়ে যাবে এ কথা ভাবলেও তিনি কাউকে পাননি কাগজপত্র করে দেবার মতো।

কেন তিনি এভাবে থেকে গেলেন এমন প্রশ্নে মিঃ ইসলাম জানান, “দেশে চাকরি-বাকরি কিছু পাইনা, পাইলেও ভালো পাইনা। এ জন্যইতো মালয়েশিয়া আইসা থাইকা গেছি। ঘুরতে আসছি আইসা থাইকা গেছি এখানে”।

তিনি জানালে্ন তিনি এমনভাবে থাকারই চিন্তা করছেন। “এখানে থাকতে পারলেতো ভালোই হবে। এখন সমস্যা চলতেছে, পরিস্থিতি বেশি ভালোনা। কিন্তু এইটা কেটে গেলেতো ভালোমতোই থাকতে পারবো”।

অনেকটা একই ধরনের মন্তব্য আসে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে প্রায় তিন বছর আগে যাওয়া মোহাম্মদ জসিম মিয়ার কাছ থেকে।

এদের সাথে কথা বলার পর মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনের সাথে কথা বললে তারাও জানান যে মালয়েশিয়ায় পুলিশি অভিযান সত্ত্বেও সেদেশে এখনও ট্যুরিস্ট বা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অবৈধ অভিবাসন অব্যাহত রয়েছে।

দেশটির অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক ধরতে সরকার এখন যে অভিযান শুরু করেছে তাতে জেল জরিমানা থেকে যেকোন ধরনের শাস্তি হতে পারে।

অভিযান শুরুর পর থেকে বাংলাদেশের মোট কতজন শ্রমিক আটক হয়েছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের লেবার কাউন্সিলর মন্টু কুমার বিশ্বাস। তিনি বলছেন, যারা মালিকের মাধ্যমে গিয়েছে তারা হয়তো কাগজপত্র করতে পেরেছে। কিন্তু যারা এজেন্টের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় গিয়েছে তারা পারেনি।

মন্টু কুমার বিশ্বাস আরো বলছেন, তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন যেন অবৈধ সব শ্রমিক সময়সীমার মধ্যে বৈধ কাগজপত্র করিয়ে ফেলে।

এদিকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন মনে করছেন, বারবার সুযোগ পাওয়ার পরও যেসব বাংলাদেশি শ্রমিক এখনও বৈধ হয়নি, তারা বৈধ হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা।

“যারা সময়ের মধ্যে কাগজ করতে পারেনি তারা সেখানে থাকার সমস্ত ক্ষমতা হারিয়েছে। তারপরও তারা যদি অবৈধভাবে জেদ করে থাকতে চায় তাহলে তাদের দায়দায়িত্ব সরকার নেবেনা”।

বিবিসিকে তিনি আরো জানান, কিছু সংখ্যক অবৈধ শ্রমিকের জন্য বাংলাদেশের শ্রম মন্ত্রণালয় আর কোন অনুরোধ জানাবেনা। যেসব বাংলাদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠানো হবে তাদের জন্য কী করণীয় হবে এমন প্রশ্নে মিঃ হোসেন বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা করেই পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলছেন, “ওই দেশের আইন তারা ভঙ্গ করেছে। সুতরাং সেদেশের আইনে যা বিচার তার সম্মুখীন তাদের হতে হবে। তাদের ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিজের কারণে আমাদের যে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ লোক সেখানে কাজ তাদের ভবিষ্যততো আমরা নষ্ট হতে দিতে পারিনা”।

২০১১ সাল থেকে পর পর পাঁচবার মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদেরকে জরিমানা দিয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ দেয় সে দেশের সরকার। এর পরও এখনও সেখানে অবৈধ রয়ে গেছে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো বাংলাদেশি।