২৯৪ কর্মী হত্যা বা গুমের অভিযোগ বিএনপির

Image caption সংবাদ সম্মেলনে মিস্টার আলমগীর-ফোকাস বাংলা

বাংলাদেশে বিএনপি অভিযোগ করেছে, দেশব্যাপী যৌথবাহিনীর অভিযানে ২৯৪ জন বিরোধী নেতা-কর্মীকে গুম বা হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৬ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গুম বা হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথবাহিনীর অভিযানে বা আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গুম বা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, গত কয়েক মাসের সহিংসতা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটক করে আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

এবার বিএনপি যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের অভিযোগ তুলে তাতে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে তিন মাসে আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ২৯৪ জন বিরোধী নেতা-কর্মীর গুম বা হত্যার যে পরিসংখ্যান তাঁরা তুলে ধরেছেন, এর তালিকা তাদের কাছে রয়েছে।

তিনি জানান, জেলা উপজেলা থেকে তাদের দল এবং জোটের শরিকদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তারা এই তালিকা করেছেন।

মি. আলমগীর বলেন, “নির্বাচনের পরে যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চলছে। এ ব্যাপারেই আমরা বেশি উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তাদের মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে। এটা খুবই ভয়াবহ। গত ১০ দিনে ১০ জনের লাশ পাওয়া গেছে।”

বিএনপি তাদের গুমের অভিযোগের ব্যাপারে সঠিক সংখ্যা দেয়নি।

তবে মি. আলমগীর সাতক্ষীরা, নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে তাদের গুম করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। একইসাথে তিনি বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্তদের নিখোঁজ হওয়া এবং পরে তাদের মৃতদেহ পাওয়ার যে অভিযোগ তুলেছেন, সে বিষয়ে নীলফামারীর ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন।

নির্বাচনের আগে নীলফামারীতে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান নূরের গাড়ির বহরে হামলা এবং হতাহতের ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, সেই মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে পরপর দু’জনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। যে দু’জন স্থানীয় বিএনপি নেতা।

তবে যৌথবাহিনীর অভিযানে গুম এবং হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, “বাসে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আক্রমণ করা হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর। জঙ্গী এসব তৎপরতা বা সহিংসতা থামছিল না। সে কারণে এ সবের সাথে জড়িতদের ধরার জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্ত গুম বা হত্যা এসব বক্তব্য সঠিক নয়।”

কয়েকদিন আগে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যৌথবাহিনীর অভিযানের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সাতক্ষীরায় এই অভিযানে দেশের বাইরের কেউ অংশ নিয়েছিল কি না, সেই সন্দেহ তাদের রয়েছে।

এ সম্পর্কে দু’একটি পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি শক্ত অবস্থান নিয়েছে।

তবে বিএনপি নেতা মি. আলমগীর বলেন, বিষয়টিতে তারা সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চান। অন্যদিকে, তাদের এখনকার অভিযোগের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যেও তিনি সন্তুষ্ট নন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, “গ্রেফতারের ভয়ে যারা পালিয়েছে, তাদেরকে বিএনপি গুম করার কথা বলছে। অভিযানে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আটক করা হচ্ছে এবং আটকদের সোপর্দ করা হচ্ছে আইনের কাছে। ”

মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সাতক্ষীরা এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জসহ যে এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় সহিংসতা হয়েছে, সে সব এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য