প্রকাশ্যে ধূমপানের ভুল করে ক্ষমা চাইলেন মন্ত্রী

smoking ছবির কপিরাইট PA

বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী স্কুল-শিক্ষার্থীদের একটি সমাবেশে প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে ক্ষমা চেয়েছেন।

সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী মঞ্চে বসে ধূমপান করছেন -এই ছবি সামাজিক ওয়েবসাইটের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পত্রিকাতেও প্রকাশ হলে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়। এরপর মন্ত্রী তাঁর ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

সমাজকল্যান মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী আজ তাঁর ভুল স্বীকার করে বলেছেন, অবচেতন মনেই শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি ধূমপান করে ফেলেছেন। এ ঘটনার জন্য তিনি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

বিবিসিকে তিনি বলেছেন- “আসলে হয়েছে কি, আমি একজন চেইন স্মোকার। অবচেতন মনে আমি ওই মঞ্চে সিগারেট খাওয়ার কারণে অনেক ফটোগ্রাফার ওই ছবি তুলেছেন। সংবাদে শিরোনাম করেছে। বাচ্চাদের অনুষ্ঠানে খাওয়াটা ঠিক হয়নি।ভুল ত্রুটিতো মানুষের হয়। ভুল হলেতো ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমি নিজেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি সবার কাছে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না হয়”।

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ, বিভিন্ন ধরনের সভা-সমাবেশ, বাস বা ট্রেনে ধূমপান করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সেই আইনের প্রয়োগ কতোটা?

২০০৫ সালে বাংলাদেশে যে তামাকনিয়ন্ত্রণ আই্ন জারি হয় তাতে আইন অমান্যের অভিযোগে জরিমানার বিধানও রাখা হয়।

সেসময় আইন পাশের পর অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করারও ঘটনা ঘটে। কিন্তু আস্তে আস্তে আইনের প্রয়োগটি কমে যায় বলে অভিযোগ করেন ধূমপান বিরোধী প্রচারাভিযানের সাথে সম্পৃক্ত সংগঠনগুলোর।

এমনকি ২০১৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনটি সংস্কার করা হলেও বাস্তবে এর কোন প্রয়োগই দেখা যাচ্ছেনা বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

ঢাকার রাস্তায় বেরোলে এই কথার প্রমাণও পাওয়া যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে, স্কুল বা কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় নানাবয়সী মানুষের ধূমপানের চিত্র।

কথা হয়েছিল কয়েকজন ধূমপায়ীর সাথে। ষাট বছর বয়সী একজন বলছিলেন, “সিগারেট হচ্ছে নেশার মতো। চায়ের মতো এটা নেশা। কেউ পান খায় নেশা হয়ে যায়, সিগারেট খাইলেও নেশা হয়, এটাতো ছাড়া সম্ভবনা”।

আরেকজন বলেন, সিগারেট খেলে চাপমুক্ত থাকা যায়।

এমনকি আইন করে বিভিন্ন জায়গায় ধূমপান নিষিদ্ধ ও জরিমানা করার বিষয়েও একমত নন অনেকে।

একজন বলেন, “এটাকে নির্দিষ্ট করা উচিত। যেমন বাচ্চাদের সামনে কোথাও খাওয়া উচিত না। বাস স্ট্যান্ডে খাওয়া উচিত না। আমি বাইরে ছিলাম ওখানে দেখেছি যে আবদ্ধ জায়গায় সিগারেট খাওয়া ঠিকনা। তো ওই বিষয়গুলো দেখা উচিত”।

বাংলাদেশে ধূমপান বিরোধী অভিযান ও কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত সংগঠনগুলো বলছে সম্প্রতি এক জরিপে তারা দেখেছেন কিশোর-কিশোরীদের ধূমপানের প্রতি আকর্ষণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

তামাক ও মাদকবিরোধী সংগঠন প্রত্যাশার জেনারেল সেক্রেটারি হেলাল আহমেদ মনে করেন ধূমপান নিয়ে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ কিছুই হয়নি।

“কোমলমতি অনেক ছেলেমেয়ে যারা নায়ক-নায়িকাদের রোল মডেল ভাবেন টিভি দেখে তারাও ধূমপানের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। নারীদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। এমনকি রাজনীতিবিদদের জনসভায় ধূমপানের চিত্রতো আছেই”।

অনেকটা একই ধরনের মন্তব্য করেন জাতীয় মাদক ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সদস্য ডাঃ অরুপ রতন চৌধুরি।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর প্রসঙ্গে মিঃ চৌধুরী বলছিলেন, “এখন যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের মধ্যে পাবলিক প্লেস বলতে আমরা যা বুঝি জনসমাগমস্থলগুলো, সেখানে কিন্তু ধূমপান নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। হচ্ছেনা এজন্য যে এই আইনটা কে বলবত করবে, কার দ্বারা হবে, জনগণ কতটা সচেতন, সেটা কিন্তু এখনও আমাদের জনগণের মধ্যে সেভাবে সাড়া জাগাতে পারেনি। বিশেষ করে প্রশাসনের লোকজন যেমন পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, এদেরও দেখা যাচ্ছে যে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করছে”।

ধূমপানের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়াতে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগের বিষয়ে গণমাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপনভিত্তিক কার্যক্রম অনেক বেশি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন মিঃ চৌধুরী।