মিশরে মোহাম্মদ মোরসির বিচার শুরু হয়েছে

morsi

মিশরে পুলিশ খুন এবং জেল থেকে কয়েদিদের পালানোর দুটি ঘটনায় সাবেক ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসির বিচার শুরু হয়েছে।

২০১১ সালে যে গণঅভ্যুত্থানে হোসনি মুবারকের পতন হয়েছিল - সেই সময় ওই ঘটনা ঘটেছিল।এর পর মি. মোরসি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতাসীন হন, কিন্তু এক বছর পরেই গত জুলাই মাসে সামরিক বাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যূত করে।

তার পর থেকেই মি. মোরসি কারাবন্দী আছেন। তিনি এখন মোট চারটি মামলায় বিচারের সম্মুখীন।

তার সঙ্গে আরো ১৩০ জনের বিচার হচ্ছে। এর মধ্যে মুসলিম ব্রাদারহুডের নিতারাও রয়েছেন।

আদালতকক্ষে একটি কাচের খাঁচায় মি. মোরসিকে রাখা হবে। তবে তিনি হেডফোনে মামলার কর্যক্রম শুনতে পারবেন এবংয় বিচারের অনুমতি নিয়ে কথাও বলতে পারবেন।

সংবাদদাতারা বলছেন এর আগে মি. মোরসি আদালতে সরকারবিরোধী শ্লোগান দিয়ে বিচারে বাধা সৃষ্টি করেন।

অন্যদিকে আজ অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে মিশরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তার বাড়ির সামনেই একটি গাড়ির ভেতর থেকে বন্দুকধারীরা তার ওপর গুলি চালায়।

এর আগে গতকাল মিশরের সর্বোচ্চ সামরিক কাউন্সিল একটি বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সেনাপ্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে তাদের ভাষায়, জনগণের আহ্বান শুনে প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ানো উচিত।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ফিল্ড মার্শাল আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফিল্ড মার্শাল আল-সিসি তার দায়িত্ব পালনে সহযোগীতা করার জন্য সামরিক নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তার প্রার্থিতা ঘোষণা করবেন।

সংবাদদাতারা বলছেন, ফিল্ড মার্শাল সিসি খুব সহজেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনে অংশ নেবেন কি নেবেন না, সে ব্যাপারে নিজের মনোভাব এখনো স্পষ্ট করেননি ফিল্ড মার্শাল আল সিসি।

তবে সেনা সূত্রগুলো বলছে, তিনি যেকোনো দিন পদত্যাগ করবেন এবং নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবেন।

আসছে মধ্য এপ্রিলে দেশটিতে নতুন একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

আল সিসির অবশ্য যুদ্ধের কোনও অভিজ্ঞতা নেই, তবে এরই মধ্যে ঝানু রাজনীতিবিদ হওয়ার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন।

গত জুলাই মাসে তার নেতৃত্বে যে অভ্যুত্থানে মোহাম্মদ মোরসি ক্ষমতাচ্যুত হয়, সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, এবং অনেক মিশরীয়ের চোখেই আল সিসি একজন নায়ক।

সমর্থকরা মনে করেন মিশরে দীর্ঘদিন ধরে চলা অস্থিতিশীলতা নিরসন করবার ক্ষমতা আল সিসির রয়েছে।

তবে বিরোধী-পক্ষও আছে তার, যারা মনে করেন আল সিসি একজন কট্টর সামরিক শাসক যিনি এরই মধ্যে মিশরে একনায়কতন্ত্রের প্রবর্তন করতে ভূমিকা রেখেছেন।