অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেন ওবামা

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ভাষণ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর বাৎসরিক স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রে ধনী-দরিদ্রের ক্রমবর্ধমান ফারাক কমিয়ে আনা এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন তার প্রধান কাজ হবে সব আমেরিকানের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা। আর এই কাজ করার জন্য তিনি প্রয়োজনে দ্বিধাবিভক্ত মার্কিন সংসদকে পাশ কাটিয়ে তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

প্রেসিডেন্ট ওবামা তাঁর ভাষণে বলেছেন অর্থনৈতিক অসাম্য মোকাবেলা করতে তিনি যেখানে সম্ভব তার নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করবেন বিভক্ত কংগ্রেসকে পাশ কাটানোর জন্য।

কেন্দ্রীয় সরকারে নতুন চুক্তিভুক্ত কর্মীদের জন্য নূন্যতম বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন প্রয়োজনে এ ব্যাপারে তিনি আইনের বাইরেও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের পরিধি নিয়ে দলীয় ভিত্তিতে দেওয়া যুক্তিতর্কের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, "কংগ্রেসের মধ্যে এই বিভক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিতকে হুমকির মুখে ফেলেছে"।

তিনি বলেন গত চার বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, শেয়ারের দাম বেড়েছে, বেকারত্বের মাত্রা কমেছে, ব্যবসা বাণিজ্যে উঁচু হারে মুনাফা হয়েছে, কিন্তু অর্থনীতির ক্ষেত্রে বৈষম্য অনেক গভীর হয়েছে।

ওবামা বলেন কঠিন বাস্তবতা হল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মধ্যেও প্রচুর সংখ্যক আমেরিকান শুধুমাত্র জীবন ধারনের জন্যই উর্পাজন করে যাচ্ছেন- অর্থনৈতিকভাবে তারা এগুতে পারছেন না। বহু মানুষ এখনও কাজ পাচ্ছেন না। এই ধারাকে বদলাতে হবে। রাতারাতি সেটা অর্জন সম্ভব হবে না এবং এটা করতে গিয়ে সবক্ষেত্রে আমাদের মতৈক্যও হবে না।

প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন তা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল কীভাবে করা যায়, মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে আরো শক্তিশালী করতে এবং দরিদ্ররা যাতে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত হতে পারে তার জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি গঠনমূলক কিছু প্রস্তাব তার ভাষণে তুলে ধরতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন এর জন্য কংগ্রেসের একটা ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু কংগ্রেসে দলীয় বিভক্তি যেখানে বাধা সৃষ্টি করবে সেখানে প্রয়োজন হলে আইনের বাইরে গিয়েও তিনি এই সুযোগ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।

মিস্টার ওবামা বলেন আমেরিকায় চাকুরিজীবীদের প্রায় অর্ধেকই মহিলা। কিন্তু একই কাজের জন্য তারা বেতন পান কম- এটা অন্যায় ও লজ্জাজনক।

পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে তিনি বলেন ইয়েমেন, সোমালিয়া, ইরাক ও মালিতে আলকায়েদার সঙ্গে সংযুক্ত উগ্রপন্থী দলগুলোর মোকাবেলায় আমেরিকা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের নীতি থেকে আমেরিকাকে সরে আসতে হবে।

মিস্টার ওবামা বলেন আফগানিস্তানে যুদ্ধের অবসান ঘটতে চলেছে। বন্দী হস্তান্তর সম্পর্কে এখনও যেসব বিধি নিষেধ রয়েছে কংগ্রেসকে এবছরই সেগুলো তুলে নিতে হবে।

তিনি বলেন, “গুয়ান্তানামো বের কারাগার এবছরই বন্ধ করতে হবে। শুধু গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পদক্ষেপের মধ্যে দিয়েই সন্ত্রাস মোকাবেলা আমেরিকার লক্ষ্য নয়, আমেরিকাকে সাংবিধানিক আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং বিশ্বের কাছে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে”।

তিনি বলেন, “মার্কিন কূটনীতি ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত করতে সফল হয়েছে এবং তিনি তার ভাষণে ভবিষ্যতেও সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে শক্তিশালী এবং নীতিনির্ভর কূটনীতির ওপর জোর দেন”।

তিনি বলেন ইরান বিষয়ে আলোচনা যাতে সফল হয় সে ব্যাপারে তিনি আগ্রহী এবং সেই আলোচনাকে সুযোগ দিতে তিনি দেশটির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে অনাগ্রহী।