উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে সমস্যায় দুই দল

  • ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
Image copyright focus bangla
Image caption উপজেলা নির্বাচনে প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ ১৯শে ফেব্রুয়ারি

বাংলাদেশে আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রথম পর্যায়ের উপজেলা নির্বাচন।

সেই নির্বাচনে মনোনয়নপ্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামী ৩রা ফেব্রুয়ারি।

আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠনের পর এটিই হতে যাচ্ছে এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন।

বিএনপিও উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের দল থেকে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কিন্তু সময়সীমার মাত্র ৪৮ ঘন্টা বাকি থাকতে প্রধান দু’টি দলের জন্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এই উপজেলা নির্বাচন কাগজে কলমে দলীয় ভিত্তিতে না হলেও, প্রার্থীরা দলীয়ভাবেই মনোনয়ন পান।

দু’টি দলেরই উচ্চপর্যায় থেকে চেষ্টা চলছে প্রতিটি উপজেলায় দলের একক প্রার্থী দিয়ে জয় নিশ্চিত করার। আর এ-লক্ষ্যে শেষ মুহুর্তে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানোর চেষ্টায় রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

আগামী ১৯শে ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ে ১০২ টি উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। এসব উপজেলার অধিকাংশতেই চেয়ারম্যান পদে দু’টি প্রধান দলের সমর্থিত একাধিক প্রার্থী রয়েছেন।

দলগুলোর উচ্চপর্যায় থেকে চেষ্টা চলছে দলীয়ভাবে মনোনীত প্রার্থী ছাড়া অন্যদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে আনার, যাদের বলা হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থী।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এমনি একজন বিদ্রোহী প্রার্থী সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ফখরুল ইসলাম মতছিন। দল থেকে অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলেও মি. ইসলামও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

“এটি হচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন। এখানে জনগণ যাকে পছন্দ করবে, তাকেই ভোট দেবে। যে দলের ইমেজ নষ্ট করবে তাকে মনোনয়ন দিলে তো এখানে কাজ হবে না। তৃণমূল পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করে এখানে প্রার্থী বাছাই করা হয় নাই।”

মি. ইসলামের মতো বিভিন্ন উপজেলায় আওয়ামী লীগের এমন প্রচুর বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। কোন কোন গণমাধ্যমের হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং বিদ্রোহী প্রার্থী মিলিয়ে দলটিতে আসনের বিপরীতে প্রায় দ্বিগুণসংখ্যক প্রার্থী রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও স্বীকার করছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে তারা কিছুটা বিপাকে পড়েছেন। তবে শেষ মুহুর্তে তাদের সরিয়ে নিতে তারা চেষ্টা করছেন।

সিলেটে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের সমন্বয় করছেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলছিলেন, “চেয়ারম্যান হিসেবে যারা ভালো কাজ করেছেন তাদের আমরা মনোনয়ন দিচ্ছি। আর যেখানে আমাদের দলের চেয়ারম্যান নেই, সেখানে শক্তিশালী প্রার্থীদের মনোনীত করছি। মনে হয় না, আমার বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা থাকবে।”

উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির যোগদানের সিদ্ধান্তের পর দলটির স্থানীয় নেতারাও বিভিন্ন উপজেলা থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির অনেক উপজেলাতেই একাধিক দলীয় প্রার্থী রয়েছে।

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির স্থানীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হকিকুল ইসলাম। একই উপজেলা থেকে বিএনপির স্থানীয় আরো দু’জন নেতা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মি. ইসলাম বলছেন, দলের নেতা-কর্মীদের সমর্থনের কারণেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন । তবে দলীয় সিদ্ধান্ত হলে তিনি সরে দাঁড়াবেন।

বিতর্কিত সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর উপজেলার এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

সর্বোচ্চসংখ্যক উপজেলায় দলসমর্থিত প্রার্থীদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণের চেষ্টা করছে তারা। এক্ষেত্রেও একাধিক প্রার্থী বিএনপির জন্য একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপির রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলছিলেন, অনেক আসনেই তাদের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে এই অবস্থাটি থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

“আমরা স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করছি যেন প্রতিটি উপজেলায় একজন করে প্রার্থী রাখা যায়। আমরা মনে করি শেষপর্যন্ত প্রায় প্রতিটি উপজেলায় একজন মাত্র প্রার্থী আমরা রাখতে পারবো।”

তৃণমূল পর্যায়ে দলের শক্তি প্রমাণ করার জন্য বাংলাদেশের প্রধান দু’টি দলই উপজেলা নির্বাচনকে বেছে নিয়েছে। তবে দলের স্থানীয় একাধিক প্রার্থীই জয়ের জন্য বড় একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদিও দু’টি দলই মনে করছে ৩রা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তারা প্রতিটি উপজেলায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারবে, তবে সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো ৪৮ ঘণ্টা।