থাইল্যান্ডে নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

  • ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
thailand protest ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption বর্তমান সরকার অপসারণের দাবিতে থাইল্যান্ডে বিক্ষোভ

থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

নির্বাচনের আগে রাজধানী ব্যাঙ্ককে সরকার ও বিরোধী সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা হয়েছে।

বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেশ কিছু লোক আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করছে এবং ব্যালট পেপার বিতরণের প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে।

ব্যাংককের রাজথেবি জেলার ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোটগ্রহন আদৌ হবে কি হবে না তা নিয়ে তারা সন্দেহে রয়েছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিটি থেকে যে সব নির্দেশনা দিয়েছে তা খুবই অস্পষ্ট। স্থানীয় নির্বাচন কমিশনারের দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছিল বাসায় অপেক্ষা করার জন্য। কিন্তু এখন আবার কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে।

এই জেলার নির্বাচনী কর্মকর্তা লাকসানা রজথামরং বলছেন, ভোটের জন্য আনুষঙ্গিক জিনিষ পত্র পাওয়া কঠিন ব্যাপার হয়ে উঠেছে। ভোটকেন্দ্রে কাজ করার মত পর্যাপ্ত লোকবল নেই এবং যেখানে সব কাজ ঠিক মত করার জন্য অন্তত ৭০০ জন লোক দরকার, সেখানে আছে মাত্র ২০০ জন।

বিরোধীরা তাদের ভাষায় প্রধানমন্ত্রী ইংলাক চিনাওয়াতের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করছে।

যেসব ভবনে ব্যালটপেপার মজুত রাখা হয়েছিল সেখানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভকারীরা অবরোধ সৃষ্টি করেছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি বর্তমান সরকারকে সরিয়ে অনির্বাচিত গণ পরিষদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হোক।

তবে বিরোধীরা বিক্ষোভ ও নির্বাচন বর্জন করলেও মিস ইংলাক এই নির্বাচনে জয়ী হবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে ।

ব্যাঙ্ককের লাক্‌সি এলাকায় শনিবার গুলি চলেছে যেটি প্রধানমন্ত্রীর পুয়-থাই পার্টির একটি শক্ত ঘাঁটি। গুলিতে আহতরা সরকার পক্ষের না বিরোধী পক্ষের তা এখনও স্পষ্ট নয়।

থাইল্যান্ডে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয় নভেম্বর মাসে সংসদের নিম্ন কক্ষে বির্তকিত একটি ক্ষমা-প্রদর্শন বিল পাশ হওয়ার পরে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ইংলাক চিনাওয়াত

সরকারের সমালোচকদের বক্তব্য এই বিল মিস ইংলাকের ভাই থাকসিন চিনাওয়াতকে আবার ফেরত আসার সুযোগ করে দেবে।

থাকসিন চিনাওয়াত থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যিনি দুর্নীতির অভিযোগে গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হন ২০০৬ সালে এবং বর্তমানে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন ।

বিরোধীদের অসন্তোষ দমনের লক্ষ্যে মিস ইংলাক মেয়াদ ফুরানোর আগেই নির্বাচন ডেকেছেন। কিন্তু বিরোধীরা এই নির্বাচন বানচাল করতে বদ্ধপরিকর।

বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন তার ধারণা দশ শতাংশ ভোটকেন্দ্র রোববার আদৌ খোলা সম্ভব হবে না।

এছাড়াও প্রার্থীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার কারণে এই নির্বাচন থেকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমপির নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে না।

ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমপি পেতে উপনির্বাচন দিতে হবে আর এর অর্থ হবে নির্বাচন হলেও রাজনীতিতে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হবে।

গত সপ্তাহেও যেসব ভোটদাতা আগাম ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাদের বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।