'এক মাসে প্রায় ৩০০ বিরোধী নেতাকর্মী হত্যা ও গুম'

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption ওয়েস্টিনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী নেত্রী

বাংলাদেশে অন্যতম একটি প্রধান দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দাবি করেছেন গত এক মাসে বিরোধী জোটের প্রায় ৩০০জন নেতা কর্মীকে হত্যা বা গুম করা হয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপার্সন আরো বলেছেন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংলাপে বসার আহ্বান সরকারকে তারা জানিয়েছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে কোনো সাড়া আসে নি।

তবে সংলাপের জন্য তারা অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করবেন না জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেছেন অল্প সময়ের মধ্যে তারা দলকে সাংগঠনিকভাবে গোছানোর কাজ চালাচ্ছেন এবং অচিরেই তারা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা গুম ও গ্রেফতারের যে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তুলে ধরেছেন সেগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন সারা দেশ থেকে দলীয় ভাবে পাওয়া তথ্য ও গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২৭ শে জানুয়ারি পর্যন্ত একমাসে বিরোধী দলের ২৪২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা ও ৬০ জনকে গুম করা হয়েছে।

সেখানে তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তার দাবি এর প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ। এজন্য তিনি সরকারের বিভিন্ন বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলকে দায়ী করেছেন। তিনি এমন অভিযোগও করেছেন যে সরকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক নেতাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে বিনা বিচারে হত্যা ও গুম একটি সভ্য সমাজে চলতে পারে না। প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরুর পর থেকে গত ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত বিরোধী দলের ২৭৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আটকের পর বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার ৩৪ জন। গ্রেফতার করা হয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জনকে।”

বিএনপি চেয়ারপার্সন হত্যা গুম ও গ্রেফতারের এসব ঘটনার বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সব মানবাধিকার সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধ না হলে মানবিক বিপর্যয় ত্বরান্বিত হবে এবং চরমপন্থী ও জঙ্গিবাদী শক্তির উত্থানের পথ প্রশস্ত হবে।

একই সাথে তিনি সরকারের কাছে এসব গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার ভাষায় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধের দাবি জানান।

অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের বিষয়টি নিয়েও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য ভুল ছিল কিনা এমন প্রশ্নে খালেদা জিয়া বলেন, “নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এ সরকারের অধীনে যে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারেনা সেটা ৫ই জানুয়ারি জনগণ প্রমাণ করেছে ভোট কেন্দ্রে না গিয়ে”।

যদিও ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের আন্দোলনের সময় একটা সহিংস পরিবেশ তৈরি হয়েছিলো কিন্তু নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর গত ১৫ ই জানুয়ারি প্রথম সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছিলেন।

তিনি বলেন এখনও সরকারের দিক থেকে কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সে পটভূমিতে খালেদা জিয়া বলেন সংলাপ বা সমঝোতার জন্য অনির্দিষ্টকাল তারা অপেক্ষা করবেন না।

তিনি বলেন, “বিএনপি জানে কোন পরিস্থিতিতে কি সিদ্ধান্ত নিতে হয়। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন কৌশল ও কর্মপন্থা নিরূপণ করেই বিএনপি এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন এই স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচার মেনে চলবেনা। আমরাও অনির্দিষ্টকাল ধরে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানিয়েই যাবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।”

খালেদা জিয়া বলেন সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান না হলে তারা অচিরেই কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। তবে কবে নাগাদ সেই কর্মসূচি আসবে সে সম্পর্কে কোন ধারনা তিনি দেননি।

তিনি রাজনৈতিক সভা সমাবেশ করার উপর বিধিনিষেধ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবং তিনি আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি চেয়েছেন।

খালেদা জিয়ার এই সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ও এর শরীক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।