জিএসপি নিয়ে এখনো প্রতিশ্রুতি নেই যুক্তরাষ্ট্রের

  • ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
tofail ahmed
Image caption বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। জিএসপিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। (ফাইল ফটো)

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা জিএসপির ওপর নিষেধাজ্ঞা ওঠাতে বাংলাদেশকে শ্রমিক কল্যাণে আরও কাজ করতে হবে।

বুধবার ঢাকায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সাথে এক বৈঠকের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা এমনই বার্তা দিয়েছেন।

দু দশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিতর্কিত চুক্তি টিকফা কার্যকরী হওয়ার এক সপ্তাহ পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাণিজ্য মন্ত্রীর সাথে দেখা করেন।

জানা গেছে বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে জিএসপির ওপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা ওঠানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

তাজরিন ফ্যাশনসে আগুন এবং রানা প্লাজা ধসের পর কল-কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করা সহ শ্রম অধিকারের বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের ওপর নাখোশ হয়ে গত জুনে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র।

আজকের (বুধবারের) বৈঠকের পর তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করছেন জুন মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আবারো জিএসপি সুবিধা চালু হবে।

তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, কল-কারখানায় কাজের পরিবেশ উন্নত করা সহ একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বেশ কিছু অগ্রগতি করলেও আরও অনেক কিছু করতে হবে।

মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পরে বিবিসিকে বলেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা প্রশ্নে সমস্ত শর্ত এপ্রিলের মধ্যে পূরণের চেষ্টা করছে সরকার।

"যুক্তরাষ্ট্র ১৬/১৭টি শর্ত দিয়েছে। তার মধ্যে কারখানায় অগ্নিনির্বাপকের ব্যবস্থা করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া রপ্তানীমুখী শিল্পের কোন কোন কারখানায় শ্রমিকদের নির্যাতন, বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া বা চাকরিচ্যূত করার মতো অভিযোগও বড় ইস্যূ হয়ে উঠেছে।"

মন্ত্রী জানান এ ব্যাপারে তদন্ত চালিয়ে ২১ টি কারখানা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই কারখানাগুলোর মালিকদের সাথে বসে দ্রুত তিনি কথা বলবেন।

জুন মাসে ওয়াশিংটনে এ নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জিএসপি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পরপরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদে।

যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী নেওয়া স্বল্প ও মধ্য মেয়াদের পরিকল্পনাগুলো আগামী এপ্রিলের মধ্যে পূরণ করতে হবে।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে এসব অ্যাকশন প্লানের কথা তুলে ধরা হয়েছে যেখানে কারখানার ভবনের নিরাপত্তা,অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা এবং ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার প্রশ্নে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান ইপিজেডে পুরোপুরি ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার দেওয়া না হলেও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে একটা উপায় বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া শ্রম আইনের সংশোধনীকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের অনেকেই।

জিএসপি সুবিধা নিয়ে কাজ করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মনে করেন যদিও বড় রপ্তানি খাত গার্মেন্টস শিল্প যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি সুবিধার আওতায় পড়ে না । এরপরও এই সুবিধা ফেরত পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে শর্তগুলো পূরণ করতে হবে।

বুধবারের বৈঠকের পর জানানো হয়, টিকফা চুক্তি নিয়ে দুদেশের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে ঢাকায় ৬ এপ্রিল।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঐ বৈঠকে জিএসপি নিয়েও আলোচনা হবে।