ভারতের নতুন ভিসায় বাদ স্থলপথের পর্যটকরা

  • ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
ভারতের ভিসা পেতে ঝামেলা পোহাতে হয় পর্যটকদের।
ভারতের ভিসা পেতে ঝামেলা পোহাতে হয় পর্যটকদের।

পর্যটন ও বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে ভারত বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা-অন-অ্যারাইভাল, অর্থাৎ এ দেশের মাটিতে পা-রাখার পর ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা চালু হয়ে যাবে এ বছরের অক্টোবর মাস থেকেই।

বাংলাদেশের নাগরিকরাও এই সুবিধা পাবেন। কিন্তু অন্য প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কাকে ভারত এই তালিকার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে বাংলাদেশী বা অন্য বিদেশি পর্যটকরা বিমানে এলে তবেই কেবল এই সুবিধা পাবেন, সড়ক বা রেলপথে আসা যাত্রীরা আপাতত এই সুবিধা পাচ্ছেন না।

ভারতের ভিসা পেতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয় কিংবা যাত্রার শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় থাকতে হয়, বিদেশে এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের এবং বাংলাদেশেও ভারতের ভিসা পেতে অভিজ্ঞতাটা প্রায় একই রকম।

শুধু এই কারণে ভারত থেকে বহু বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ী মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন - এটা জানা থাকা সত্ত্বেও ভারত এতদিন ভিসা-অন-অ্যারাইভাল চালু করতে পারেনি মূলত স্বরাষ্ট্র আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা তাদের অধীন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আপত্তি ছিল মূলত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তি ছিল যে গোটাকুড়ি দেশ ভারতীয় পর্যটকদের ভিসা-অন-অ্যারাইভাল দিয়ে থাকে শুধু তাদেরকেই এই সুবিধাটা দেওয়া উচিত।

কিন্তু বুধবার রাতে যোজনা কমিশনে এক উচ্চ পর্যায়ের আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে স্থির হয়েছে যে ভারত বিশ্বের প্রায় সব দেশকেই এই সুবিধা দেবে, শুধু আটটি দেশ বাদে।

এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মসৃণভাবে যাতে এই প্রক্রিয়া চালু করা যায় তার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘এর জন্য বিরাট পরিকাঠামোগত আয়োজন দরকার, কারণ বিমানবন্দরে এসে পৌঁছনো পর্যটকদের ভিসা মঞ্জুর করে খুব তাড়াতাড়ি সব মিটিয়ে ফেলতে হবে।’

মি. খুরশিদ আরও জানিয়েছেন, ‘আমি নিশ্চিত ভারতে যেটা পর্যটন মরশুমের শুরু, অর্থাৎ অক্টোবরের মধ্যেই এই পদ্ধতিটা পুরোদমে চালু করে দেওয়া যাবে। এবং মাঝের এই ছ-সাত মাসে এই ভিসা-অন-অ্যারাইভালের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোটা গড়ে তোলা হবে।’

নতুন এই পদ্ধতিতে বিদেশি পর্যটকদের ভারতে আসার কমপক্ষে তিনদিন আগে একটি ইলেকট্রনিক ট্র্যাভেল অথরাইজেশন বা ইটা-র জন্য আবেদন করতে হবে ইন্টারনেটে।

প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি পর্যটক ভারত সফর করেন।

এর জন্য কোনও ভারতীয় দূতাবাস বা ভিসা প্রসেসিং এজেন্টের কাছে যাওয়ার দরকার পড়বে না।

সেই ইটা মঞ্জুর হওয়ার পরে তারা যখন ভারতের নির্দিষ্ট বিমানবন্দরগুলোতে পা রাখবেন, তখন তাদের ৩০ দিনের জন্য ভিসা দেওয়া হবে।

যে ১৮০টি দেশকে এই সুবিধা দেওয়া হবে, তার মধ্যে বাংলাদেশও আছে, যদিও প্রথমে শর্টলিস্ট করা ৪০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল না।

আর যে আটটি দেশ বাদ পড়েছে তার মধ্যে আছে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা বা ইরান ও ইরাকের মতো দেশ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. খুরশিদ অবশ্য জানিয়েছেন, এই তালিকা পরে আবার পর্যালোচনা করা হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কোনও কোনও দেশ হয়তো প্রশ্ন তুলতেই পারে আমরা কেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নই বা ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে ঘটনা হল, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে কিছু দিন পর পর এই জিনিসগুলো সব সময়ই আবার খতিয়ে দেখা হয়।’

তিনি সেই সঙ্গেই যোগ করেছেন, ‘এক্ষেত্রে যথাযথ সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে এবং আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা যত বেশি সম্ভব পর্যটককে ভারতে স্বাগত জানাতে চাই। তাদের যাত্রা যাতে মসৃণ হয় তা নিশ্চিত করতে চাই।’

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশকে যে ভিসা-অন-অ্যারাইভালের আওতায় রাখা হয়েছে তার প্রধান কারণ আমেরিকা ও ব্রিটেনের পরই যে দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভারতে আসেন, তার নাম বাংলাদেশ।

এর একটা বড় অংশই অবশ্য সড়ক বা রেলপথে আসেন, এবং তারা এক্ষুণি এই সুবিধা পাচ্ছেনও না। কিন্তু তার পরেও এত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী পর্যটককে ভারত উপেক্ষা করতে পারেনি।

পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের দিক থেকে ঝুঁকি এখন প্রায় নেই বলে ভারতীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন, যা পাকিস্তানের ক্ষেত্রে খাটে না।