আইপিএল নিলামে রেকর্ড দরে খেলোয়াড় বিক্রি

বিশ্বের সবচেয়ে দামী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএল-কে ঘিরে দুর্নীতি আর ফিক্সিংয়ের যতই অভিযোগ উঠুক, বুধবার ব্যাঙ্গালোরে এই টুর্নামেন্টের জন্য ক্রিকেটারদের নিলাম কিন্তু টাকার অঙ্কে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

আজকের নিলামে অলরাউন্ডার যুবরাজ সিং-কে চোদ্দ কোটি ভারতীয় রুপি-তে কিনে নিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, আইপিএলের ইতিহাসে এত দামে এর আগে কোনও ক্রিকেটার বিকোননি।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলস নয় কোটি রুপিতে কিনেছে কেভিন পিটারসনকে, আরও সাড়ে তিন কোটি বেশি দিয়ে কিনেছে দীনেশ কার্তিককেও।

আইপিএলের দলগুলোতে সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে কিংবা এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো পাতানো কি না তা নিয়ে যে যথেষ্ঠ সন্দেহের অবকাশ আছে – সেই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে সোমবারেই।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ১৪ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছেন যুবরাজ সিং

বিচারপতি মুদগলের সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেরই ধারণা ছিল আইপিএল-সিক্সের নিলাম এবার বেশ সাদামাটা হতে যাচ্ছে, আর সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগীরাও বোধহয় এই নিলাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

অথচ সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণিত করে আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে দেখা গেল আইপিএল-এ টাকার ঝনঝনানি অত সহজে বন্ধ হওয়ার নয়।

যুবরাজ সিংকে ঘিরে আগ্রহ ছিল তুমুল । ব্যাঙ্গালোর দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন তারা যুবরাজকে পেতে ঝাঁপাবেন।

উৎসাহী ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সও এবং শেষ পর্যন্ত দেখা গেল শাহরুখ খান আর বিজয় মালিয়ার দলের মধ্যে তুমুল টানাটানির পর যুবরাজ ১৪ কোটি রুপি-র বিশাল দামে বিক্রি হয়ে গেলেন আর শেষ হাসি হাসল ব্যাঙ্গালোরই।

দিল্লি ডেয়ারডেভিলস এবার দল গড়ছে একেবারে শূন্য থেকে। ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে বাতিল কেভিন পিটারসনকে এবার পুরো মরশুম পাওয়া যাবে, তারা সেই পিটারসনকে তুলে নিল নয়কোটি রুপিতে।

কিন্তু চমকে দিলেন দীনেশ কার্তিক । দিল্লি এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে কিনে নিল সাড়ে বারো কোটিতে।

অস্ট্রেলিয়ান অ্যারন ফিঞ্চ হায়দ্রাবাদে গেলেন চার কোটিতে, আর টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট রবিন উত্থাপ্পাকে ৫ কোটিতে পেল কলকাতা।

তবে সব ক্রিকেটারের ভাগ্য এতটা সদয় ছিল না। শ্রীলঙ্কার মাত্র দুএকজন ছাড়া সব ক্রিকেটারই যেমন নিলামে এখনও অবিক্রিত রয়ে গেছেন। দল পাননি মাহেলা জয়বর্ধনে বা তিলকরত্নে দিলশানের মতো তারকাও।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান-ই একমাত্র বিক্রি হয়েছেন ; তার এক কোটি রুপি বেস প্রাইস ছিল – সেখানে ২ কোটি ৮০ লক্ষ রুপি খরচ করে তাকে রেখে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

ঠিক অর্ধেক বেস প্রাইস নিয়ে এখনও বিক্রি হননি তামিম ইকবাল, অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সোহাগ গাজী ও মাহমুদুল্লাকেও।

কিন্তু স্পট ফিক্সিং ও দুর্নীতির যাবতীয় বিতর্ককে পেছনে ফেলে আইপিএলের নিলামে অর্থের এই স্রোত কীভাবে বজায় থাকছে?

উইজডেন ইন্ডিয়া পত্রিকার সিনিয়র এডিটর ও ক্রিকেট ভাষ্যকার সাম্য দাশগুপ্ত বলছিলেন এখানে লগ্নি সহজে বন্ধ হওয়ার নয়। কারণ একটু অন্যরকম হলেও আইপিএল একটা সফল বিজনেস মডেল।

‘চেন্নাই সুপার কিংস বা রাজস্থান রয়্যালস – যে দুটো দলের মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট সেই দলগুলোকে শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করলে আইপিএল আদৌ হবে কি না তা নিয়ে নিশ্চয় প্রশ্ন উঠবে । কিন্তু তার আগে পর্যন্ত ‘বিজনেস অ্যাস ইউজুয়াল’ চলাটাই স্বাভাবিক।’

সেই সঙ্গেই তিনি বলছেন, ‘আইপিএল একটা ব্যবসা। ব্যবসার নিয়মেই সেখানে লগ্নি আসবে, স্পনসররা আসবে। তবে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট যেহেতু সাবান তৈরির ব্যবসা নয়, তাই এখানে দুর্নীতি প্রমাণিত হলে ক্রিকেট অনুরাগীরা দু:খ পাবেনই।’

‘কিন্তু কোম্পানিতে একজন চুরি করলে যেহেতু কোম্পানি বন্ধ হয় না – তাই আইপিএলেও দুয়েকজন দোষী হলে হয়তো টুর্নামেন্টটা বন্ধ হয়ে যাবে না, কিন্তু আইপিএলকে দুর্নীতিমুক্ত করার কাজ অবশ্যই শুরু করতে হবে’, অভিমত সাম্য দাশগুপ্তর।

ব্যাঙ্গালোরে আইপিএলের নিলাম চলবে আগামিকালও । আরও কিছু ক্রিকেটার দল পেয়ে যাবেন, আর মোটামুটি শস্তায় ভাল কয়েকজনকে তুলে নেওয়ার মওকায় থাকবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও।

কিন্তু নিলামে প্রতিটা দলের সর্বোচ্চ খরচ করতে পারার যে ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া আছে, প্রতিটা দলই তার বেশিটাই আজ খরচ করে ফেলার পর কারও আকাশছোঁয়া দর পাওয়ার আর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।