উত্তর কোরিয়ায় নির্যাতনের মাত্রা নাৎসিদের সমান - জাতিসংঘ

kim jong un ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উন।

উত্তর কোরিয়ায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর নৃশংসতার প্রচণ্ড মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের প্রধান।

তদন্ত কমিশন বলছে, তারা সেখানে যে হারে হত্যা, নির্যাতন, অনাহার এবং দাসপ্রথার প্রমাণ জানতে পেয়েছে, তা বর্তমান বিশ্বের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান মাইকেল কারবি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম লিডার কিম জং উনসহ শত-শত কর্মকর্তাকে তারা চিহ্নিত করেছেন যাদের আন্তর্জাতিক বিচারের আওতায় আনা উচিত।

জাতিসংঘের দীর্ঘ-প্রতীক্ষিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়াতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের যে প্রমাণ পাওয়া গেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবশ্যই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থার নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের তদন্ত দলটি বলছে, উত্তর কোরিয়ায় নৃশংসতার মাত্রা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তদন্ত দলের প্রধান, মাইকেল কারবি বলেন উত্তর কোরিয়ায় অপরাধের মাত্রা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের নৃশংসতার সমান্তরাল।

“একটি কারাগারের প্রত্যক্ষদর্শী আমাদের জানিয়েছেন, তার কাজ ছিল প্রতিদিন অনাহারে মৃত্যুবরণ করা মানুষদের লাশ বহন করা এবং সেগুলো পুড়িয়ে ছাই সংগ্রহ করা। শরীরের যেসব অংশ পোড়েনি, সেগুলো সার হিসেবে পার্শ্ববর্তী মাঠে পুতে ফেলা হতো। এধরণের কাজ আমাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।” বলেন মি. কারবি।

নির্যাতন এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নসহ অন্যান্য অপরাধের প্রমাণও তদন্ত দলটি শুনতে পেরেছে।

তবে পিয়ংইয়ং প্রশাসন প্রতিবেদনটি তৈরিতে কোন সহযোগিতা করেনি এই প্রতিবেদনটির ফলাফলও প্রত্যাখ্যান করেছে।

জাতিসংঘের কমিশন বলেছে, মি. কিমকে প্রতিবেদনের একটি আগাম কপি দেয়া হয় এবং একটি চিঠিতে তাকে সতর্ক করে দেয়া হয় যে, এসব অপরাধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তাকে দায়ী করা হতে পারে। তবে তিনি এ চিঠির উত্তর দিতে ব্যর্থ হন।

তদন্ত দলের কাছে দেশ থেকে পালিয়ে আসা বেশ কয়েকজন উত্তর কোরিয়ান সাক্ষ্য দিয়েছে। এসব সাক্ষ্যে সন্তানকে জোরপূর্বক পানিতে ডুবিয়ে হত্যা, শিশুদের জন্মের পর থেকে কারাগারে রাখা ও অনাহারে হত্যা এবং বিদেশী টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখার কারণে পুরো পরিবারের ওপর নির্যাতনের ঘটনারও বর্ণনা পাওয়া গেছে।