ইউক্রেনে দাঙ্গায় নিহত ২৬, কিয়েভে ছত্রীসেনা

  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
ukraine ছবির কপিরাইট Getty
Image caption কিয়েভে সরকারি ভবনে আগুন

ইউক্রেনে পুলিশ ও সরকার বিরোধীদের দাঙ্গায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২৬ জন নিহত হওয়ার পর সামরিক স্থাপনা এবং অস্ত্র গুদাম রক্ষায় রাজধানী কিয়েভে ছত্রীসেনা পাঠানো হচ্ছে।

রাজধানী ছাড়াও দেশের অন্যান্য শহরেরও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর পাওযা যাচ্ছে।

দাঙ্গায় এত প্রাণহানির পরও সরকার বিরোধীরা ঘোষণা দিয়েছে তারা কিয়েভের ইন্ডিপেনডেন্ট স্কয়ারের দখল ছাড়বে না।

তবে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে রাজধানীর কেন্দ্রে চত্বর থেকে আন্দোলনকারীদের হটাতে নতুন অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সময় ভোর চারটার দিকে দাঙ্গা পুলিশ নতুন করে হামলা চালায়। এ সময় আন্দোলনকারীদের কয়েকটি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্কের প্রশ্নে ইউক্রেনে জনমত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে।

সঙ্কটের শুরু নভেম্বরে

নভেম্বর মাসে ইইউ এর সাথে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাবিত একটি চুক্তি ইউক্রেনের রুশ-পন্থি প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ নাকচ করে দিলে, ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়।

ছবির কপিরাইট ukraine
Image caption কিয়েভের কেন্দ্রে দাঙ্গা পুলিশের সাঁজোয়া যান

প্রতিবাদে সরকার বিরোধীরা ডিসেম্বর থেকে কিয়েভের কেন্দ্রে ইন্ডিপেনডেন্ট স্কয়ারে অবস্থান নেয়।

পুলিশ গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় সেখান থেকে তাদের তাড়াতে চেষ্টা করলে সহিংসতা শুরু হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬, যাদের মধ্যে বারো জন পুলিশের সদস্য।

দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপ

এই সহিংসতা এবং প্রাণহানির জন্য সরকার ও বিরোধীরা পরস্পরকে দোষারোপ করছে।

প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে, তার ভাষায়, চরমপন্থিদের দায়ী করছেন। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন সরকারের এজেন্টরাই সহিংসতায় উস্কানী দিয়েছে।

তবে শীর্ষ একজন বিরোধী একজন নেতা ভিটালি ক্লিৎসকো জার্মান একটি পত্রিকাকে বলেছেন, পুলিশ অভিযান বন্ধ করলে তিনি প্রেসিডেন্টর সাথে মীমাংসা বসতে রাজী।

ওদিকে রাজধানীর বাইরে অন্যান্য শহরেরও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

দেশের পশ্চিমের অন্তত দুটো শহর লাভিভ ও টেরনোপিলে বিক্ষোভকারিরা সরকারি ভবনে আগুন দিয়েছে।

অন্যদিকে, জাতিগত রুশ অধ্যুষিত পূর্বে বিরোধী দলের অফিসগুলোতে হামলা হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) একটি জরুরী বৈঠকে বসছেন। সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্টের ইয়ানুকোভিচের হাতে এখন রক্ত।

অন্যদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এই রক্তক্ষয়ের জন্য প্রধানত ইউক্রেনের বিরোধীদের দায়ী করেছেন।