বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় চলছে ইউরোপীয় ক্রেতাদের পরিদর্শন

  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
Image caption কাজ শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শ্রমিকরা

বাংলাদেশে এক সরকারি জরিপে দেখা গেছে যে দেশটির অধিকাংশ তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার কারখানাতেই পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সহযোগিতায়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় এই পরিদর্শন চালায়।

তবে কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ-র একজন নেতা জানিয়েছেন, এসব কারখানার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, এ মাসের ১৯ তারিখ থেকে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট এ্যাকর্ড-এর উদ্যোগে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে আরো একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিদর্শনের কাজ শুরু হয়েছে।

আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ভবন ধসের পরই গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

Image copyright AFP
Image caption তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয় শতাধিক শ্রমিক

তারপর থেকেই দেশের পোশাক কারখানার অবকাঠামো ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মান দেখার জন্যে পরিদর্শনের ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে নভেম্বরের শেষ দিকে আইএলও’র সহযোগিতায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বুয়েটের একটি পরিদর্শক দল দেশের প্রায় ২২২ টি কারখানায় পরিদর্শন চালায়।

আর তাতে দেড়শোটির ওপর কারখানায় অবকাঠামোগত অবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থার মান এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তার বিষয়টি যথাযথ নয় বলে চিহ্নিত করে পরিদর্শক দল।

বিজিএমইএ-র সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেছেন, পরিদর্শক দল ঐসব কারখানায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছে।

“ঐ পরিদর্শনে ১৫০টার মতে কারখানাকে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেবার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে বিষয়টা হলো, পরিদর্শনের একটি পর্যায় শেষ হলো, এরপর আরো মনিটরিং হবে। পরিদর্শকেরা দেখবে আমরা কতটা অগ্রগতি করলাম।”

মি. আজিম বলেন, মারাত্মক ত্রুটি এবং ঝুঁকিপূর্ণ না হওয়ায় এসব কারখানার বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক কঠোর কোন ব্যবস্থা না নিয়ে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেধে দেয়া হয়েছে।

বুয়েটের এই পরিদর্শক দল মোট ১০০০ কারখানা পরিদর্শন করবে।

তবে মি. আজিম দাবী করেছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গত কয়েক মাসে গার্মেন্ট খাতে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

তবে এজন্য আরো সময় এবং পর্যাপ্ত অর্থ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

“নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরো কিছুটা সময় এবং যথাযথ ফান্ডিং দরকার হবে। কারণ ঝুঁকিপূর্ণ বিল্ডিং পাওয়া গেলে সেটা অন্য জায়গায় সরাতে অর্থের দরকার।”

Image copyright Reuters
Image caption বেশিরভাগ কারখানাতেই পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই

এদিকে, এ মাসের ১৯ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট এ্যাকর্ড এর পরিদর্শনের কাজ।

এ্যাকর্ডের বাংলাদেশ অপারেশনের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েস জানিয়েছেন, এক বছর সময়ের মধ্যে তাদের জোটভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য বিক্রি করে এমন ১৬০০ কারখানায় তারা পরিদর্শন কাজ চালাবেন।

প্রথম পর্যায়ের এই পরিদর্শনে চার সপ্তাহের মধ্যে মোট দুশোটি কারখানা পরিদর্শন করবে এ্যাকর্ড।

তবে পরিদর্শন শেষ হওয়ার আগে তাদের প্রাপ্ত তথ্যের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপরাগতা জানিয়েছেন মি. ওয়েস।

আর উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স মার্চের শুরু থেকে তাদের জোটভুক্ত কারখানাগুলোতে পরিদর্শন শুরু করবে।

সরকারি হিসেব মতে, বাংলাদেশে এই মূহুর্তে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার কারখানার সংখ্যা চার হাজারের মতো।