ইউক্রেনে সমঝোতার পর প্রেসিডেন্টের প্রাসাদ বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে

  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
Image copyright AFP
Image caption রাজধানীতে সরকারবিরোধীদের বিক্ষোভ

ইউক্রেনে রাজনৈতিক সঙ্কট কাটাতে প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ও তার বিরোধীদের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই বিরোধী কর্মীরা রাজধানী কিয়েভে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

বিবিসির একজন সংবাদদাতা প্রাসাদের ভেতরে গিয়েছিলেন এবং তার কাছে ভবনটিকে পরিত্যক্ত বলেই মনে হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি সব ভবনের প্রবেশ পথেরও।

এর মধ্যেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কয়ারেও তাদের বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ এখন কোথায় আছেন সেবিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

Image copyright n
Image caption প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ। মি. ইয়ানুকোভিচ কোথায় আছেন সেটা স্পষ্ট নয়

তবে তার ঘনিষ্টরা বলছেন, তিনি দেশটির পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার সীমান্তের কাছে খারখিভ শহরে অবস্থান করছেন।

তারা বলছেন, দেশ ছেড়ে প্রেসিডেন্টের অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

আরো কিছু অগ্রগতি

এর মধ্যে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে। এবং সেগুলো খুব দ্রুতই ঘটছে।

বিরোধী নেতা ইওলিয়া টিমোশেঙ্কো, যাকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে, তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্যে পার্লামেন্টে ভোট হয়েছে।

এর আগে বিরোধী নেতার দু’জন ঘনিষ্ট মিত্রকে পার্লামেন্টের স্পিকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আপাতত নতুন স্পিকারই দেশটির প্রশাসন পরিচালনা করবেন বলে বলা হচ্ছে।

বিক্ষোভ চলছে

সমঝোতার পরেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কয়ারেও তাদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে।

Image copyright AFP
Image caption প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ

তারা আগামী ২৫শে মে’র আগেই নির্বাচন দাবি করছে।

এখনও হাজার হাজার মানুষ রাজধানীর রাস্তায়।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কয়ারে, যেটা আন্দোলনের মূল কেন্দ্র সেখানে নিহত বিক্ষোভকারীদের অন্তেষ্টিক্রিয়া চলছে।

এই আন্দোলন শুরু হয়েছিলো গত বছরের নভেম্বর মাসে যখন প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়ার ঘনিষ্ট হতে চেয়েছিলেন তখন থেকেই।

তারপর থেকেই বিক্ষোভ চলছিলো এবং গত বৃহস্পতিবারেই সবচে বেশি রক্তপাত হয়েছে।

গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি হিসেবেই পুলিশ ও বিক্ষোভকারী মিলিয়ে ৭৭ জন নিহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

প্রেসিডেন্টের সাথে বিরোধীদের চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

Image copyright AFP
Image caption সরকারি হিসেবে গত মঙ্গলবার থেকে ৭৭জন নিহত হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এই চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়নই এখন মুখ্য বিষয়।

মার্কিন একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে প্রেসিডেন্ট ওবামা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে চুক্তিটি নিয়ে কথা বলেছেন।

রাশিয়াও এই চুক্তির বাস্তবায়নে অংশ নিতে চাইছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা হয়েছে।

চুক্তি অনুসারে দেশটিতে গঠিত হবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ডিসেম্বরের আগেই।

দেশটিতে ২০০৪ সালে সংবিধান কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে যেখানে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছিলো।