পুলিশের 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত জঙ্গি রাকিবুল

ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত রাকিবুল হাসান।

বাংলাদেশে প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর পর ধরা পড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত জঙ্গি নেতা রাকিবুল হাসান পুলিশের সাথে বন্দুক-যুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

পুলিশ বলেছে, তাকে নিয়ে অন্য পলাতক দু’জন জঙ্গির খোঁজে পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় জঙ্গিদের সাথে এই বন্দুক-যুদ্ধ হয়।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, নিষিদ্ধ জেএমবি নেতার বন্দুক-যুদ্ধে মৃত্যুর এ ঘটনা নিয়ে সন্দেহের কিছু নেই।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি নেতা রাকিবুল হাসান প্রিজন ভ্যান থেকে পালানোর অল্প সময়ের মধ্যে আটক এবং এর কয়েক ঘণ্টা পরই সোমবার ভোর রাতে বন্দুক-যুদ্ধে তার নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার হাসিবুল হাসান জানিয়েছেন, রাকিবুল হাসানের সাথে আরও দু’জন সাজাপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিন সালেহিন এবং জায়েদুল ইসলাম ওরফে মিজান প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়েছিল।

পুনরায় ধরা পরার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অন্যদের ব্যাপারে তথ্য দিয়েছিল।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জঙ্গি রাকিবুল হাসানকে নিয়ে অভিযানে গিয়েছিল।

অভিযানের শুরুতেই জঙ্গিরা পুলিশের উপরে গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি চালিয়েছিল। পুলিশ সুপার উল্লেখ করেছেন, ১৫/২০ মিনিট ধরে চলা বন্দুক-যুদ্ধেই জঙ্গি রাকিবুল হাসানের মৃত্যু হয়।

রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি মহাসড়কে সাজাপ্রাপ্ত তিনজন জঙ্গিকে নিয়ে যাওয়ার সময় একদল হামলাকারী তাদের ছিনিয়ে নেয়।

সে সময় এই হামলায় একজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়।

পুলিশের মামলা:

এ ব্যাপারে পুলিশ অবশ্য মামলা করেছে।

কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জাকারিয়া এবং রাসেল নামের দু’জনকে আটক করেছে।

এই দু’জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ২০ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে।

তবে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত রাকিবুল হাসানকে নিয়ে অন্যদের ধরতে অভিযান এবং বন্দুক-যুদ্ধে তার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে পুলিশ বলেছে, যেহেতু তিন জন একসাথে পালিয়েছিল, সেকারণে আইনের ভিতরে থেকেই রাকিবুল হাসানকে নিয়ে পুলিশ অভিযানে গিয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ঘটনাটিকে ঘিরে সন্দেহের কিছু নেই বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলছিলেন, "ফিল্মি স্টাইলে এদের ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর তারা আবার ধরা পড়ে। তখন আটক জঙ্গির দেওয়া তথ্য অনুযায়ীই তাকে নিয়ে পুলিশ অভিযানে গেলে গোলাগুলিতে তার মৃত্যু হয়। এটা এনকাউন্টারও নয়। এই ঘটনা নিয়ে সন্দেহ করার কিছু নেই।"

প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত এবং যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আরও দু’জন শীর্ষ নেতা সালাহউদ্দিন সালেহিন এবং জায়েদুল ইসলাম ওরফে মিজানকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান খান বলেছেন, ঐ দু’জন জঙ্গিকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্ব্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে। সীমান্তে সর্ব্বোচ্চ সতর্কাবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবশ্যই এই জঙ্গিদের ধরা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলছিলেন, "জঙ্গিরা আবারও তৎপর হওয়ার চেষ্টা যে করছে, প্রিজন ভ্যান থেকে আসামী ছিনতাইয়ের ঘটনার মাধ্যমে তারা সেই জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে সরকার শক্তভাবেই এদের দমন করবে।"

অন্যদিকে, রোববার প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়া জঙ্গিদের ধরিয়ে দিতে পুলিশ পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য