আরও একজন 'ক্রসফায়ারে' নিহত, উদ্বেগহীন মন্ত্রী

  • ২ মার্চ ২০১৪
bangladesh rab
বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য অঙ্গুলি প্রধানত র‍্যাবের দিকে (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা মাগুরায় পুলিশের অস্ত্র চুরির অভিযোগে আটক একজন যুবক 'ক্রসফায়ারে' নিহত।

শরিফুল বিশ্বাস রাজুর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে পুলিশ তাদের প্রচলিত ব্যাখ্যা দিয়েছে।

বিবিসিকে যে ব্যাখ্যা মাগুরারা শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ দিয়েছেন সেটি এরকম -- রোববার ভোর রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে তারা রাজুকে নিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য গোবরা এলাকায় অভিযানে যান।

এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজুর সহযোগী সন্ত্রাসীরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় রাজু পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার সহযোগীদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয় এবং মারা যায়।

বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটকের পর মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

প্রতিটি ঘটনার পরই পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার যাবার পর তিনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।

আটক ব্যক্তিকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার অর্থই কি তিনি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবেন? অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?

এই প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিবিসিকে বলেন, আসামীদের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের।

"কিন্তু যখন কাউকে নিয়ে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায়, তখন যদি তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা, জঙ্গিরা আক্রমণ করে, তখন তারা তো কোনও মায়া করে না। যাকে পায় তাকেই গুলি করে। তখন যদি কেউ মারা যায়, সেটিই বন্দুকযুদ্ধ।"

তথাকথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অবশ্য একমত নন।

"আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো আছে। বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে, শ্রমিকরা কাজ করছে, গাড়ি চলছে। তবে দুয়েকটা চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে বলে আমার মনে হয় না।"

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে পুলিশের হাতে আটকের পর কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে ১১ জন, পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাবের হাতে ১৩ জন এবং যৌথবাহিনীর হাতে সাতজন মরা গেছে।

গত মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে র‍্যাব ও পুলিশের হাতে আটকের পর নিহত হয়েছেন ১৬ জন।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তারা সংক্ষিপ্ত পথে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে চায়।

"প্রথম দিকে আমরা দেখেছি যারা ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই মামলা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে যাদের হত্যা করা হচ্ছে, তাদের একটা বড় অংশই রাজনৈতিক কর্মী।"

এ বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন বা গণমাধ্যমের যেরকম সোচ্চার হবার কথা ছিল, তা হয়নি বলেও মনে করেন নূর খান।

তিনি বলেন, "ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় কেউই খুব জোরালোভাবে এর বিরুদ্ধে কথা বলছেন না"।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান অভিযুক্ত আটক ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযান চালালেও তার নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় এ ধরণের মৃত্যু নিয়ে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সরকারকে নানা সময় সুপারিশ দিয়েছেন। "এটা দু:খজনক যে তারপরও এ ধরণের ঘটনা ঘটছে।"