দলে 'ব্লেমগেমের' অভিযোগ এনে খোকার পদত্যাগ

  • ১২ মার্চ ২০১৪
bd bnp ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন সাদেক হোসেন খোকা

বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির ঢাকা মহানগরের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সাদেক হোসেন খোকা।

টানা ১৭ বছর ধরে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটির প্রধান হিসাবে আছেন।

আজ (বুধবার) হঠাৎ করেই জাতীয়তাবাদী যুবদলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে মি. খোকা এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে তিনি আগে থেকেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

কেন তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন, সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে, ঢাকার সাবেক এই মেয়র বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের পরিণতি নিয়ে দলের ভেতর নানারকম দোষারোপ পাল্টা দোষারোপ চলছে।

"(আন্দোলন নিয়ে) দলের ভেতর ব্লেমগেমের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি খোলাসা করার দরকার।"

বিবিসিকে তিনি বলেন, কমিটির পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় সহোযোগিতা করতে সরে দাড়াচ্ছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচই জানুয়ারি নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে সারাদেশে থেকে ঢাকায় লোক সমাবেশের এক কর্মসূচি কার্যত ব্যর্থ হওয়ার পর ঢাকা মহানগরীর তৎপরতা নিয়ে দলের ভেতর প্রশ্ন ওঠে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনেকে মনে করেন, ঢাকার বাইরে আন্দোলনের যে মাত্রা ছিল, সে তুলনায় ঢাকায় দলের তৎপরতা ছিল কম। দলের কেন্দ্রীয় অনেক নেতা ঢাকা মহানগর কমিটি পূর্ণগঠনের দাবিও তোলেন।

খালেদার অসন্তোষ

জানা গেছে এ নিয়ে গত মাসের শেষ দিকে ঢাকা মহানগর কমিটির সাথে এক বৈঠকে খালেদা জিয়া খোলাখুলি ঢাকা মহানগর বিএনপির ভূমিকা নিয়ে খোলাখুলি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিবিসিকে বলেন, “এবারের আন্দোলনটা তৃণমুল বা গ্রাম পর্যায় থেকে শহর বা ঢাকায় আসে। কিন্তু ঢাকার নেতাকর্মিরা সেভাবে ভূমিকা রাখতে পারেনি।”

মি রায় জানান গত ৯ই মার্চ তাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই ঢাকা মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ঢাকায় আন্দোলন জোরালো ছিল না বলে বিএনপিতে ক্ষোভ (ফাইল ফটো)

তারপরই আজ (বুধবার) হঠাৎ এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাদেক হোসেন খোকা তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন।

তবে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও মি খোকা তার এবং তার কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ মানতে রাজি নন।

বিবিসিকে তিনি বলেন, “মহানগরে আন্দোলন জোরদার করতে আটজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে আমি এবং হান্নান শাহ জেলে ছিলাম। বাকিরা তাহলে কি করেছিলো। সেই প্রশ্ন আসতে পারে। শুধু মহানগর কমিটিকে দোষ দিলে তো চলবে না।”

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক আন্দোলনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সহ সহযোগী সংগঠনগুলোর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে এক বৈঠকে খালেদা জিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিএনপির সবপর্যায়ে পুনর্গঠনের উদ্যোগ

তবে বিএনপি নেতাদের অনেকেই বলেছেন, শুধু মহানগর কমিটি নয়, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব পর্যায়েই পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “শুধু ঢাকা মহানগর কমিটিই নয়। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সহযোগী অনেক সংগঠনেরও কমিটির মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। ফলে উপজেলা নির্বাচনের পরে জাতীয় কাউন্সিল করা এবং সহযোগী সংগঠনগুলোও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে না পেরে বিএনপির মাঠ পর্যায়ে যে হতাশা দেখা দিয়েছিল, সেটা সামাল দিতে বিএনপি উপজেলা নির্বাচনকে একটা মাধ্যম হিসেবে নেয়।

তবে দলের ভিতরে আন্দোলনের পরণতি নিয়ে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে বিএনপি এখন সব পর্যায়ে সংগঠনকে পুনর্গঠনের কথা বলছে।