ইউক্রেন সংকটঃ ওবামাকে পুতিনের টেলিফোন

  • ২৯ মার্চ ২০১৪
ছবির কপিরাইট AP
Image caption রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

ইউক্রেনের সংকট নিয়ে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আলোচনা করেছেন।

মি. ওবামাকে টেলিফোন করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর মার্কিনীদের একটি প্রস্তাব অনুযায়ী ঠিক হয় যে ইউক্রেনের সীমান্তে রাশিয়া সৈন্য সমাবেশ বন্ধ করবে এবং ক্রাইমিয়ায় রুশ ভাষাভাষীদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠাতে দেবে।

সৌদি আরবে সফরের সময় মি ওবামার কাছে টেলিফোন করেন মি. পুতিন।

দুই প্রেসিডেন্টের টেলিফোন আলাপে ঠিক হয় যে দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় বসবে।

ইউক্রেনের সংকটের প্রেক্ষাপটে একে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর আগে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে টেলিফোন করে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইউক্রেনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এ সময় মি. ওবামা ইউক্রেনের সাথে সীমান্তে রাশিয়াকে সৈন্য সমাবেশ কমাতে বলেন।

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, মি. ওবামা রাশিয়ার কাছ থেকে লিখিত আকারে একটি জবাব চেয়েছেন।

আমেরিকার প্রস্তাব মূলত ইউক্রেন ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সাথে আলোচনা করেই ঠিক করা হয়েছিল।

তবে ক্রেমলিন বলছে, পরিস্থিতি কিভাবে স্থিতিশীল করা যায় মি. পুতিন সে বিষয়ে পর্যালোচনার কথা বলেছেন।

এক বিবৃতিতে ক্রেমলিনের পক্ষে বলা হয়, মি. পুতিন কিয়েভ ও ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে “চরমপন্থিদের অব্যাহত উন্মত্ততার” বিষয়ে মি. ওবামার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ওদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃবৃন্দকে এই সংকট সমাধানে আলোচনায় বসতে বলেছেন।

নিউ ইয়র্কে এক বক্তৃতায় তিনি বলেন ইউক্রেনের সংকট বিশ্বের অন্যান্য সমস্যার সমাধানের ওপর হুমকি সৃষ্টি করেছে।

এর আগে নেটো বলেছে ইউক্রেনের পূর্বাংশে সীমান্তের কাছে রাশিয়ার সৈন্য বৃদ্ধির ঘটনা তাদের জন্য বেশ উদ্বেগের।

নেটোর গণমাধ্যম বিষয়ক পরিচালক লেফটেনেন্ট কর্নেল জে জ্যানজেন বিবিসিকে বলেন, যেভাবে রাশিয়া সৈন্য বাড়িয়েছে তাতে করে মনে হয়নি তা শুধু মাত্র কোন মহড়া।

ওদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সার্গেই শোইগু বলেছেন, ক্রাইমিয়াতে রাশিয়ার সামরিক অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং সেখান থেকে ইউক্রেনের সব সেনা কর্মকর্তারা চলে গেছেন।

ক্রাইমিয়াকে নিজের অংশ হিসেবে নেয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে।