নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচন দিন: খালেদা

  • ২৯ মার্চ ২০১৪
ছবির কপিরাইট Getty
Image caption খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচন দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া।

সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, সরকারের প্রতি একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিরও আহ্বান জানান মিসেস জিয়া।

অন্যথায়, তিনি উপজেলা নির্বাচনের পর কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানোর হুমকি দিয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী পূরণ না হওয়ায় ৫ই জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার পর দলটি আগাম মধ্যবর্তী একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবী জানিয়ে আসছে।

শনিবার প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের এক সমাবেশে দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে রাখা বক্তব্যওে তিনি সরকারকে অবিলম্বে আগাম জাতীয় নির্বাচন দেবার আহ্বান জানান।

সমাবেশে মিসেস জিয়া সরকারের প্রতি নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

"অবৈধ একটা পার্লামেন্ট চালানোর প্রয়োজন নেই। বরং নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে অবিলম্বে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করুন। সেই নির্বাচনে যারা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে, আমরা সেটি মেনে নেব।"

ঐ সমাবেশে মিসেস জিয়া আরো বলেন উপজেলা নির্বাচনের পর তার দল সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে। তবে, একই সাথে তিনি বলেন যে দলটি আন্দোলনের কোন নির্দিষ্ট দিন তারিখ ঘোষণা করে কর্মসূচী দেবে না।

"সময় কাল নির্ধারন করে আন্দোলন হবে না। আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে। আওয়ামী লীগ মনে করেছে বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না, হ্যা, বিএনপি তাদের মত আন্দোলন করে না।"

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি গত বছর আন্দোলন এবং পরে নির্বাচন বর্জন করে। তবে সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই দশম জাতয়ি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে সরকার। দুই দলের মধ্যে সংলাপ নিয়ে অনেক জ্বল্পনা-কল্পনা হলে্ও প্রকাশ্য কোন আলোচনা দেখা যায়নি।

কিন্তু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যাবার পর তাহলে এখন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের এই দাবী আদায়ে কিভাবে অগ্রসর হবে বিএনপি?

জানতে চেয়েছিলাম দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার কাছে। তিনি বলেন, "যেমনভাবে আগে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল, সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সেটি করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে সেটি আদায় করতে হবে।"

তবে মি. মিয়া আরো বলেন যে নির্বাচনের আগে সরকার আগাম নির্বাচনের কথা বললেও এখন আর তা বলছে না, ফলে দাবী আদায়ে বিএনপি আলোচনা ও আন্দোলন একই সাথে চালিয়ে যাবে দলটি।

এদিকে, প্রেসক্লাবের ঐ সমাবেশে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দলীয়করণ, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ তোলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

এ ছাড়া দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভিসহ বন্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলো চালু করার আহ্বানও জানান তিনি।