'জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলবে'

  • ৩১ মার্চ ২০১৪
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ কতটা হুমকির মুখে রয়েছে
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের মানুষ হুমকির মুখে রয়েছে

জলবায়ু পরির্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি প্যানেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে অবিলস্বে পদক্ষেপ না নিলে পৃথিবীজুড়ে বহু মানুষের জীবন-জীবিকার উপর প্রভাব পড়বে। যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি হুমকীর মুখে রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বাংলাদেশের উপকূলের লক্ষ-লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকা যে হুমকির মুখে পড়বে সেটি বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এখনও পর্যন্ত যতগুলো প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে তার মধ্যে আইপিসিসির এই প্রতিবেদনটি সবচেয়ে ব্যাপক বলে বর্ণনা করছেন বিজ্ঞানীরা।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের স্বাস্থ্য, বাসস্থান, খাদ্য সবকিছুই হুমকির মুখে পড়বে।

জাতিসংঘের আইপিসিসি’র বিজ্ঞানীরা বলছেন ২০০৭ সালে জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব তারা দেখেছিলেন এই প্রতিবেদনে সেটি দ্বিগুণ হয়েছে। আইপিসিসি’র প্রধান রাজেন্দ্র পাচৌরী বলছেন বিষয়টি গুরুতর।

তিনি বলেন এই প্রতিবেদনের তথ্যগুলোকে উপেক্ষা করার কোন কারণ থাকতে পারে না। কারণ এই প্রতিবেদনের তথ্যগুলো বেশ ব্যাপক বলে উল্লেখ করেন মি: পাচৗরী।

বাংলাদেশ কতটা হুমকীতে রয়েছে? আর মানুষ সে সম্পর্কে কতটাই বা জানেন?

পৃথিবীর যে কয়েকটি দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে পৃথিবীজুড়ে বিজ্ঞানীরা যখন বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন তখন এ বিষয়টি নিয়ে যারা হুমকির মুখে রয়েছে তারা কতটা জানেন?

পটুয়াখালীর কৃষক জামাল হোসেনকে জিজ্ঞেস করেছিলাম।তিনি বলেন , “ জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারটা শুনছি। তয় স্পষ্ট ধারনা নাই। আমি শুনছি জলবায়ু পরিবর্তন হইছে। তয় কিভাবে কি হইছে আমার ধারনা নাই। ”

জলবায়ু পরিবর্তনের নানা কারণে পরিবেশের উপর নানা হুমকি নিয়ে বিজ্ঞানীরা যেমন বারবার সতর্ক করছেন তেমনি সরকার প্রধানরা সেটি মোকাবেলার উপায় খুঁজছেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে না পারলেও বাংলাদেশের উপকূলের মানুষ বুঝতে পারছেন প্রকৃতি আর আগের মতো আচরণ করছে না। যার কারণে প্রভাব পড়ছে কৃষিকাজে, বলছিলেন সাতক্ষীরার কৃষক ইশারত আলী।

বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীতে উষ্ণতা যেমন বাড়বে তেমনি হিমবাহ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে।

এই প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেছেন উন্নত দেশগুলোতে গ্রীন হাউস গ্যাস নির্গমন অবশ্যই কমাতে হবে। সেটি হলে কি পরিণতি হবে তা উঠে এসেছে আইপিসিসি’র প্রতিবেদনে।

এই প্রতিবেদন তৈরির সাথে সম্পৃক্ত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সালিমুল হক বলছেন কি পরিণতি অপেক্ষা করছে।

সালিমুল হক বলেন গ্রিন হাউজ গ্যাস নিগর্মন কমাতে না পারলে আগামী ৫০ কিংবা ১০০ বছরে তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে।

মি: হক বলেন , “ তাপমাত্রা বেড়ে যদি চার ডিগ্রি বেড়ে যায় তাহলে এর সাথে খাপ খা্ওয়ানো যাবে না।আর যদি দুই ডিগ্রির নিচে রাখা যায় তাহলে হয়তো সেটি মোকাবেলা করা যাবে।” তিনি বলেন এতে করে বাংলাদেশে বন্যা এবং সাইক্লোনের প্রবণতা বেড়ে যাবে।

পশ্চিমা দেশগুলো কি করবে সেটির তো একটি দিক আছেই তবে ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশ এরই মধ্যে কিভাবে সে ঝুঁকি মোকাবেলা করবে তার একটি কৌশলপত্র নির্ধারণ করছে যার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টি অন্যতম।

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের দায়িত্ব পালন করবে বলে সালিমুল হক আশা করেন। তিনি বলেন এখনও পর্যন্ত পশ্চিমা দেশগুলো তাদের দায়িত্ব পালন না করলেও আইপিসিসি’র এই প্রতিবেদনের পর তারা সেই গুরুত্ব দিবে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য