ক্রিকেট জুয়াড়ি সন্দেহে বেনাপোলে ভারতীয় নাগরিক আটক

  • ৪ এপ্রিল ২০১৪
petrapole benapole border ছবির কপিরাইট bbc bangla
Image caption আটক ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল

বাংলাদেশে যশোরের বেনাপোল থেকে ভারতীয় একজন নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃত ওই ব্যক্তি ক্রিকেট জুয়াড়ি হতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ।

বৃহস্পতিবার বেনাপোল বাজার থেকে আটক ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাংলাদেশে চলমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত জুয়া বা ম্যাচ গড়াপেটার কোন অভিযোগ শোনা যায়নি।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আটক ঐ ভারতীয় নাগরিকের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ঢাকার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ঐ ব্যক্তিকে আটকের ব্যপারে নির্দেশনাও দেওয়া ছিল বেনাপোল চেকপোষ্টে। এ জন্য গত তিন দিন ধরে ইমিগ্রেশন এলাকায় রেড অ্যালার্ট চলছিল বলেও জানান তিনি।

তবে ঠিক কী অভিযোগে ঐ ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে, সেটি পরিষ্কার জানেন না দাবী করে তিনি বলছেন তাদের (পুলিশের) সন্দেহ যে ঐ ব্যক্তি ক্রিকেট জুয়াড়ি অথবা স্বর্ণ চোরাচালানির সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন।

“আমাদের কাছে যে নির্দেশ ছিল, সেইমত তার পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে তাকে আটক করেছি। এরপর আজ সকালে তাকে ডিজিএফআই এর কাছে দিয়ে দিয়েছি। এখন তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”

মি. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন আটক ব্যক্তি গত ১৫ই মার্চ ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয় ৩১শে মার্চ। এর পরও বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন তিনি।

ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং বা গড়াপেটা নতুন নয়। সম্প্রতি ভারতে আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে বিতর্কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের প্রধানকে।

কিন্তু বাংলাদেশে চলমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত জুয়া বা ম্যাচ গড়াপেটার কোন অভিযোগ শোনা যায়নি।

এই টুর্নামেন্ট চলাকালে ক্রিকেট মাঠে জুয়া বা ম্যাচ গড়াপেটা ঠেকাতে কি ব্যবস্থা বা প্রস্তুতি নিয়েছে বিসিবি বা কর্তৃপক্ষ?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একজন পরিচালক ও সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান বলছেন এরকম যে কোন টুর্নামেন্টে আইসিসি’র দুর্নীতিবিরোধী ও নিরাপত্তা ইউনিট আকসুর বিশেষ নিরাপত্তা দল কার্যকর থাকে, এবং সার্বক্ষণিকভাবে প্রতিটি ম্যাচ মনিটর করে থাকে।

“আকসু’র নিরাপত্তা দল এটা মনিটর করে। ড্রেসিং রুমে ঢোকার আগে প্লেয়ারদের ফোন জমা দিতে হয় ম্যানেজারের কাছে, তারপর টিম ষ্টাফদের কাছেও কোন ফোন রাখা হয় না। আর প্রতিটি ম্যাচের সময় ড্রেসিং রুমে আকসুর প্রতিনিধি থাকে।”

মি. খান বলছেন আকসুর সঙ্গে সঙ্গে বিসিবি এবং দেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খখলা বাহিনীও বিষয়টির দিকে কড়া নজর রাখছেন।

আর সে কারণেই এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোন অভিযোগ আকসু করেনি।

তিনি আশা করছেন টুর্নামেন্টের বাকি সময়েও এরকম অভিযোগ তারা পাবেন না।