মালয়েশিয়ান বিমানের খোঁজে 'গুরুত্বপূর্ণ সূত্র'

ছবির কপিরাইট Getty
Image caption মালয়েশিয়ান বিমানের খোঁজে অনুসন্ধানকারী দল।

চীনা একটি জাহাজের পাওয়া সঙ্কেতের পর নিখোঁজ মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের রহস্য উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

গতকাল ভারত মহাসাগরে চীনা একটি জাহাজ দুটো কম্পমান সঙ্কেত পায়। ধারণা করা হচ্ছে নিখোঁজ বিমানটির ব্ল্যাক বক্স থেকে এই সঙ্কেত আসতে পারে। সঙ্কেত দুটোকে গুরুত্ব দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। তারা ঐ অঞ্চলে আধুনিক যন্ত্রপাতি সহ জাহাজ ও বিমান পাঠাচ্ছে।

তবে একইসাথে খুব বেশি আশাবাদী হতে সাবধান করা হয়েছে। গত ৮ই মার্চ ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে বিমানটি উধাও হয়ে যায়। এর ভাগ্যে ঠিক কি ঘটেছে, এখনও সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উধাও হয়ে যাওয়া বিমানটির অবস্থান সম্পর্কে এর আগেও নানা ধরনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। কখনো সেটা ছিলো সমুদ্রের পানিতে তেলের স্তর। আবার কখনো মহাসাগরের বুকে ভাসমান বস্তু, স্যাটেলাইটের ছবিতে যা বেশ কয়েকবারই ধরা পড়েছিলো। কিন্তু সেসব ক্লু পরে বিমানটির খোঁজ দিতে পারেনি।

এই সন্ধান অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা চীনের পাওয়া এই কম্পন সঙ্কেতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করলেও তারা বলছেন, এই সঙ্কেত যে নিখোঁজ বিমানের ব্ল্যাক বক্স থেকেই আসছে সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।

Image caption ত্রিভূজাকৃতির এধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে খোঁজা হচ্ছে বিমানের ব্ল্যাকবক্স।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট বলছেন, তারা আশাবাদী কিন্তু নিশ্চিত নন। মানব ইতিহাসে এটা সবচে কঠিন একটি তল্লাশি অভিযান। এমন একটি বিমানের খোঁজ করা হচ্ছে যা মহাসমুদ্রের গভীর তলানিতে পরে আছে। যেখানে খোঁজা হচ্ছে সেই এলাকাটাও খুব বিস্তৃত। আর একারণেই একাজটা খুব কঠিন।

চীন বলছে যে প্রথম কম্পনের কয়েক ঘণ্টা পর তারা দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে দ্বিতীয়বারের মতো ওই কম্পন শনাক্ত করতে পেরেছেন। ওই সঙ্কেত স্থায়ী হয়েছিলো ৯০ সেকেন্ডের মতো।

এই ক্লু পাওয়ার পর এখন অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের জাহাজ সেদিকে ছুটছে। এসব জাহাজে পানির নিচ থেকে আসা রেকর্ডারের সঙ্কেত ধরতে আছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। জাহাজের পাশাপাশি ওই এলাকায় এয়ারক্রাফটও পাঠানো হচ্ছে।

এখন সন্ধান চলছে অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে দু'হাজার কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ইতোমধ্যেই সেখানে ১৩টি জাহাজ ও বহু সামরিক বিমান এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

প্রায় এক মাস আগে ২৩৯ জন যাত্রী নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া বিমানটি খুঁজে বের করার জন্যে এখন সবচে বড়ো চ্যালেঞ্জ- সময়। কর্মকর্তারা বলছেন, সেই সময় ক্রমশই ফুরিয়ে আসছে। কারণ ব্ল্যাক বক্সের ব্যাটারির চার্জ তিরিশ দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে যাওয়ার কথা।