খালেদা জিয়ার জব্দ ব্যাঙ্ক হিসাব খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধী বিএনপি

  • ৮ এপ্রিল ২০১৪
ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে অন্যতম একটি প্রধান দল বিএনপি তাদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার জব্দ থাকা সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করে দলটির নেতারা বলেছেন, সেনা-সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে খালেদা জিয়ার আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্ধ রাখার এই অভিযোগ সরকার অস্বীকার করেছে। সরকার বলছে, বিএনপি চাইলে বিষয়টাতে আইনের আশ্রয় নিতে পারে।

সাত বছর ধরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকলেও এখন দলটি সেগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানালো।

এই পটভূমিটাও তৈরি হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতার মন্তব্যকে ঘিরে।

তারা সংসদে বিএনপি নেত্রীর অর্থব্যয় এবং জীবন যাপন নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন।

ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির নেতারা ঐ সব বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছেন।

একইসাথে তারা দীর্ঘ সময় ধরে খালেদা জিয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ থাকার তথ্য তুলে ধরে সেগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

ঐ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, “বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছিল। সে সময়ই শেখ হাসিনার অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হলেও খালেদা জিয়ার অ্যাকাউন্ট জব্দ রাখা হয়েছে।”

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময় গত পাঁচ বছরে বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও কোন সুরাহা পাওয়া যায় নি। অন্যায়ভাবে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।”

খালেদা জিয়ার একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেলের আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে শুধু দু’টিতে সীমিত পর্যায়ে কিছু লেনদেন হয়।

সেখানে বাড়িভাড়াসহ অর্জিত অর্থ জমা করা যায় এবং মাসে শুধু ৫০ হাজার টাকা উঠানো যায়। তবে এসবের জন্য অনুমতি নিতে হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, “জব্দ অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হলে আইন অনুযায়ী আলাদা অ্যাকাউন্ট করতে হয়। সে সব কিছু অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এগুলোতে সে রকম কোন অর্থ নেই।”

তবে যে দু’টো অ্যাকাউন্টে অনুমতি নিয়ে সীমিত পর্যায়ে লেন দেন করা যায়, সেখানে কত অর্থ থাকতে পারে, সে ব্যাপারে নজরুল ইসলাম খান বা বিএনপি নেতারা মুখ খোলেননি।

সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে হয়েছিল দু’টি মামলা।

এসব মামলার চারটির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে রয়েছে এবং দু’টি নিম্ন আদালতে বিচারাধীন আছে।

বিএনপি নেতারা বলেছেন, এসব মামলায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার বিষয় না থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে।

তবে এমন বক্তব্য মানতে রাজি নন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড: মশিউর রহমান।

তিনি বলেছেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে আবেদন করে কোন ফল না পেলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন বা আদালতে যেতে পারেন। যেখানে আইনে নিষ্পত্তির বিষয় আছে, সে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে দেখা ঠিক নয়। এবং অর্থের উৎস নিয়ে কোন অপরাধ থাকলে তার সাথে রাজনৈতিক পরিচয় আসে না।”

বিএনপি অবশ্য এখনই আইনের আশ্রয় নেওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলছে না।

দলটির নেতারা বলেছেন, আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করে তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।