উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ফলাফল মূল্যায়ন

  • ১১ এপ্রিল ২০১৪
Upajila election Image copyright focus bangla
Image caption অনেক জায়গায় ভোট ভাগ হয়েছে বলে বলছে আওয়ামী লীগ

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে দলীয় মূল্যায়নে মাঠ পর্যায়ে কোন্দলসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেছে।

দলটির নেতারা বলেছেন, জাতীয় রাজনীতির চাইতে মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক দূর্বলতাসহ স্থানীয় পরিস্থিতি উপজেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।

ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে দেড় মাস ধরে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। নির্বাচনের পর দলটি মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে এখন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে।

দেড় মাস ধরে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফলাফল আওয়ামী লীগের জন্য ছিল বিপর্যয়।

বিরোধী বিএনপি এবং জামায়াত প্রার্থীরা বেশিরভাগ উপজেলায় জয়ী হয়। পরের তিন ধাপে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা পর্যায়ক্রমে ভাল ফল করে। কিন্তু সেখানে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যায়।

আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের বিরুদ্ধে জোর জবরদস্তির অভিযোগ ওঠে। দলটি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তবে সেই নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেছে। দলটির নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন, তাদের মূল্যায়নে মাঠ পর্যায়ে কোন্দল, সাংগঠনিক কর্মকান্ডে শৃংখলার অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা উঠে এসেছে।

তিনি বলছিলেন, “যেখানে বিএনপি-জামায়াত এক হয়ে ভোট দিয়েছে, সেখানে আমাদের কোথাও দু’জন. তিনজন, চারজন পর্যন্ত প্রার্থী দাঁড়িয়ে গেছে। ফলে আমাদের ভোট ভাগ হয়েছে। কোনো জায়গায় পাওয়া গেছে নিতান্তই নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং অনেক জায়গায় দেখা গেছে, বড় নেতারা চান না যে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসুক।”

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজে চিঠি লিখে মাঠপর্যায়ের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী দিতে বলেছিলেন। তারপরও অনেক জায়গায় আমাদের নেতারা তাদের নিজের পছন্দের প্রার্থী দিয়েছিলেন। এই সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিচ্ছি।”

তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটকে বাদ দিয়ে ৫ই জানুয়ারি একতরফাভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতেই উপজেলা নির্বাচন হয়।

এর একটা নেতিবাচক প্রভাব আওয়ামী লীগের বিপক্ষে উপজেলা নির্বাচনে কাজ করেছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন। তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বেশ কিছু নেতিবাচক বিষয়ও ভোটারদের প্রভাবিত করেছিল।

এমন বক্তব্য মানতে রাজি নন আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বিভিন্ন উপজেলায় তাদের একাধিক প্রার্থীর ভোট যোগ করলে আওয়ামী লীগের পক্ষেই বেশি ভোট দেখা যায়।

Image copyright focus bangla
Image caption খুলনায় ভোটের আগে আওয়ামী লীগের প্রচারণা (ফাইল চিত্র)

ফলে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব উপজেলা নির্বাচনে সেভাবে পড়েনি বলে তাদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

উত্তরের রংপুর অঞ্চলে আওয়ামীলীগের শক্ত সাংগঠনিক অবস্থান ছিল। সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিমও বলেছেন, সাংগঠনিক এবং স্থানীয় সমস্যার কারণেই তাদের অঞ্চলেও খারাপ ফলাফল হয়েছে।

আওয়ামী লীগ তাদের সাংগঠনিক বিষয়ে যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছে, তাতে সরকারে থাকার কারণে মাঠপর্যায়ে দলের স্থবিরতার বিষয় উঠে এসেছে।

এইচ টি ইমাম বলেছেন, “সরকারে থাকলে সকলে একটু গা ঢিলা দেয়। বিরোধীদলে থাকার সময় আমরা কর্মতৎপরতা নিয়ে এবং যে রকম উৎসাহের সাথে কাজ করেছি। তাতে এখন ঘাটতি পড়েছে। উপজেলা নির্বাচন নিয়ে মূল্যায়নে এটা ধরা পড়লো। মাঠপর্যায়ে অনেক জেলায় কমিটি নেই, পুরনো কমিটি এবং নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না। এ বিষয় আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”

আওয়ামীলীগের নেতারা আরও বলেছেন, চিহ্নিত সমস্যাগুলো নিয়ে এখন দল পুনর্গঠনে তারা বেশি নজর দিচ্ছেন।