বোর্ড পরিচালনায় থাকতে পারবেননা শ্রীনিবাসন

  • ১৬ এপ্রিল ২০১৪

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অপসারিত প্রধান এবং আইসিসি-র ভাবী চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসনের সঙ্কট আজ আরও বেড়েছে – তিনি কোনওভাবেই বোর্ড পরিচালনাতে যুক্ত থাকতে পারবেন না বলে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ জানিয়ে দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, আইপিএল-দুর্নীতির তদন্তে নিযুক্ত প্যানেল বন্ধ খামে করে মোট যে তেরোজন সন্দেহভাজন ক্রিকেটার-কর্মকর্তার নাম আদালতে জমা দিয়েছিল, তাতেও যে মি শ্রীনিবাসনের নাম রয়েছে – সে কথা সুপ্রিম কোর্টই আজ ফাঁস করে দিয়েছে।

আইপিএলে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে আদালত তাদের অবস্থান আরও কঠোর করার কথা বলল এমন এক দিনে – যখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজই শুরু হচ্ছে আইপিএলের নতুন মরশুম!

গত বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচনের ভরা বাজারেও ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে ছেয়ে আছে আইপিএল সেভেনের হাজারো বিজ্ঞাপন – যে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আজ আবুধাবিতে মুখোমুখি হচ্ছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স আর কলকাতা নাইট রাইডার্স।

ক্রিকেট উৎসবের এই রঙিন আবহেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে – তারা আইপিএল সেভেনের অনুমতি দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আইপিএল সিক্সকে ঘিরে ফিক্সিং, বেটিং আর দুর্নীতির যে অজস্র অভিযোগ উঠেছে তার হেস্তনেস্ত না-করে তারা ছাড়বে না!

সন্দেহ আর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন যথারীতি ভারতের বিতর্কিত ক্রিকেট প্রশাসক এন শ্রীনিবাসন।

বিচারপতি মুকুল মুদগলের তদন্ত প্যানেল বন্ধ খামে করে কাদের নাম জমা দিয়েছেন, তা নিয়ে গত দুমাস ধরেই তুমুল জল্পনা চলছিল – সুপ্রিম কোর্ট আজ নিজে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে সন্দেহভাজনদের এই তালিকায় আছেন মোট বারোজন ক্রিকেটার আর স্বয়ং মি শ্রীনিবাসন!

মামলায় মূল আবেদনকারী, বিহার ক্রিকেট সংস্থার সচিব আদিত্য ভার্মা বলছিলেন, ‘বিচারপতিরা জানিয়েছেন তালিকার তেরোটি নামের মধ্যে তেরো নম্বর নামটিই শ্রীনিবাসন সাহেবের।’

মি ভার্মা আরও বলেন, ‘তারা বিসিসিআই-কে একথাও বলেছেন, কীভাবে তদন্ত হবে – অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে না কি পুলিশের মাধ্যমে সেটাও ঠিক করতে হবে – কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি যাতে অমলিন থাকে সেটা তাদের নিশ্চিত করতে হবে।’

আর এই নিরপেক্ষ, স্বাধীন তদন্তেরই প্রধান শর্ত হল এন শ্রীনিবাসনকে বোর্ডের সব কার্যকলাপ থেকে বাইরে রাখতে হবে – সুপ্রিম কোর্ট যা আজ পরিষ্কার করে দিয়েছে।

ক্রিকেট পর্যবেক্ষক বোরিয়া মজুমদারের কথায়, ‘কোনও আকারে, কোনও ভাবেই যে মি শ্রীনিবাসন যে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না সেটা সুপ্রিম কোর্ট আজ একেবারে পরিষ্কার করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলছিলেন, ‘বোর্ডের প্রতি আদালতের ইঙ্গিতটা খুব পরিষ্কার – ওনাকে সরাও, ক্রিকেটকে বাঁচাও!’

কিন্তু শ্রীনিবাসনের বিপদ শুধু এতেই শেষ নয়। আগামী জুলাই থেকে তার যে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি-র চেয়ারম্যান পদে বসার কথা, দেশের ভেতর এই প্রবল সঙ্কটেও এতদিন কিন্তু তাঁর সেই পদে বসা নিয়ে কোনও পাল্টা চ্যালেঞ্জ আসেনি।

কিন্তু আজ তাঁর সেই স্বস্তিটুকুও আর থাকছে না, জানিয়ে বোরিয়া মজুমদার বলছিলেন, ‘আবেদনকারীদের তরফে আইনজীবী নলিনী চিদম্বরম আজ আর একটি আলাদা পিটিশনও করেছেনে – যাতে আইসিসিতে মি শ্রীনিবাসন ভারতের প্রতিনিধিত্ব না-করতে পারেন!’

এর অর্থ হল মি শ্রীনিবাসনের আইসিসি প্রধানের পদে যাওয়া নিয়েও এখন আস্তে আস্তে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদনের শুনানি হবে ২২শে এপ্রিল।

মি শ্রীনিবাসন অবশ্য তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে আজও আদালতের রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি কোথায় আছেন, সেটাও কাউকে জানাননি।

তবে তাঁকে যারা অনেকদিন চেনেন, তারা বলছেন আবুধাবিতে আজকের রাতের ম্যাচেই হয়তো তাকে ভিআইপি বক্সে বসে নির্বিকার ভঙ্গীতে খেলা দেখতে দেখা যাবে – কারণ আইপিএলের বিজ্ঞাপনী ভাষাতেই, তার যে ‘বুলাভা’ বা ডাক এসে গেছে!