রাজনৈতিক গুম কী মুক্তিপণের জন্য অপহরণ বাড়াচ্ছে?

  • ২ মে ২০১৪
Image copyright bbc
Image caption মুক্তিপণের বিনিময়ে অপহরণের ঘটনা বাড়ছে

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে অপহৃত সাতজনের মৃতদেহ পাওয়ার দুইদিন পর আজ শুক্রবার একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এই ব্যবসায়ীকে অপহরণের ক্ষেত্রে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা কর্মী গুম হওয়ার পর অন্যান্য অপরাধীরাও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

তবে এ ব্যাপারে দ্বিমতও রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং আইনজীবীসহ সাতজনকে অপহরণ করার পর তাদের মৃতদেহ পাওয়ার ঘটনা দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই নারায়ণগঞ্জে একজন ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এই ব্যবসায়ীর স্ত্রীর কাছে টেলিফোনে বিশ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরইমধ্যে কুড়িগ্রামসহ আরও দু’একটি জায়গা থেকে অপহরণের অভিযোগ এসেছিল।

দেশের শীর্ষপর্যায়ের একটি মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নূর খান লিটন বলেছেন, অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা-কর্মী গুম হওয়ার অভিযোগ উঠছিল। সেগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রহস্য উন্মোচন হয়নি। আর সে কারণেই অপহরণ করে অপরাধীদের মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনা ঘটানোর প্রবণতা হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে তার ধারণা।

“বিরোধীদল এবং বিরোধী মতের লোকেরা যখন অপহৃত হয় এবং সেগুলোর যখন কুলকিনারা করা যায় না, অথবা দোষীদের চিহ্নিত করার মতো কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, সেই সুযোগে মুক্তিপণ আদায় বা অপহরণ করে দাবি আদায়ের মতো অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে।” বলছেন নূর খান লিটন।

বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের গুম হওয়ার ঘটনার পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান দিচ্ছে।

তবে পুলিশের একজন সাবেক আইজি নুরুল হুদা মূলত রাজনৈতিক কারণে কারও গুম হওয়ার অভিযোগ মানতে রাজি নন।

তার মতে, “যদিও অনেক নেতাকর্মীর গুম বা অপহৃত হওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিপণের দাবি আসছে না। এক ধরণের ভিন্ন কৌশলের বিষয় আসছে। কিন্তু অপহরণের পিছনে শুধু মুক্তিপণের দাবি আসবে, সেটাও ঠিক নয়। অনেক সময় প্রতিহিংসা থেকে বা জমি-জমার বিরোধসহ নানান কারণে এসব ঘটনা ঘটতে পারে। আর আইনে স্বার্থের বিষয়কেই বিবেচনায় নেওয়া হয়।”

তবে অনেকের গুম হওয়ার দীর্ঘসময় পরও কোন খোঁজ মিলছে না। ঘটনা রহস্যই থেকে যাচ্ছে।

নূর খান লিটন মনে করেন, কোন দলের নেতাকর্মীকে গুম করার ক্ষেত্রে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠছে। কিন্তু সরকার সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ায় বা আমলে না নেওয়ায় অন্যান্য অপরাধীদের অপরাধ ঠেকানো যাচ্ছে না।

নূর খান লিটন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেছেন, গত চার মাসে অপহরণের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তার ৫৪টির ক্ষেত্রে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে।

এ ব্যাপারেও ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন পুলিশের সাবেক আইজি নুরুল হুদা। তিনি বলছেন, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছুটা ব্যর্থতার অভিযোগও আছে। কিন্তু অনেক সময় অপরাধীদের আকস্মিক ঘটনার ক্ষেত্রে কিছু করার থাকে না। ঘটনা ঘটার পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, সেটা দেখে তখন ব্যর্থতার প্রশ্ন আসবে।

বিশ্লেষকদের অনেকেই বলেছেন. সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রতি অনাস্থা তৈরি হচ্ছে, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে অপরাধের বিরুদ্ধে তাদেরকেই কার্যকর বা শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য