আটকের ক্ষেত্রে আইন মানছে না সরকারি বাহিনী

ছবির কপিরাইট AP
Image caption র‍্যাবের বিরুদ্ধে বে-আইনি গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে

বাংলাদেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ তুলেছে, র‍্যাবসহ সরকারের বিভিন্ন আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে আটকের পর দীর্ঘসময় তা গোপন করে রাখছে।

আইনজীবীরা বলেছেন, কাউকে আটকের পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা না হলে, সেটা হবে আইন বহির্ভূত। আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীগুলো অবশ্য আইন অমান্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আটক আটজনকে র‍্যাব সংবাদ সম্মেলনে হাজির করেছিল গত ৩০শে এপ্রিল।

কিন্তু প্রকাশ্যে আনার আগে ঐ আটকদের কয়েকজনের পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের অপহরণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। কারণ আটকদের পরিবারগুলো ধারণাই করতে পারেনি, কি কারণে এবং কারা তাদের সন্তানদের উঠিয়ে নিয়েছিল।

আটক এই আটজনের মধ্যে রয়েছেন ভালুকার একটি কোচিং সেন্টারের একজন শিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক। তার পিতা জয়নাল আবেদীন বলেছেন, “রাত চারটার সময় বাড়ির দরজা ভেঙ্গে আমার ছেলেরে উঠায়ে নিয়ে যায়। পায়ে পইড়্যা কইছি, আপনারা কারা,কই নিয়া যান। তারা কইছিল থানায় যাইতে। থানায় গেলে পুলিশ কয়, তারা জানে না। তিনদিন পর যখন টেলিভিশনে ওগোরে হাজির খবর দেখাইছে, তখন জানতে পারি যে, আইনের লোক নিয়া গেছে।”

ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে আহমেদ আলী নামের একজনকে গোয়েন্দা পুলিশ উঠিয়ে নিয়েছিল কিছুদিন আগে। ঘটনার চারদিন পর তার পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, পুলিশ তাকে আটক করেছে প্রতারণার অভিযোগে। এ ক্ষেত্রেও আগে আটকের অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করেছিল।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নূর খান লিটন বলেছেন, “এমন ঘটনার সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ঘটনা কিন্তু অহরাহ ঘটছে।আমরা পর্যবেক্ষণে অনেক ক্ষেত্রে দেখছি, কেউ নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের আত্নীয় স্বজনরা থানায় জিডি করেছেন। এর দীর্ঘদিন পর আটক ব্যক্তিকে কোন মামলায় আটক দেখিয়ে হাজির করা হচ্ছে।”

তবে আইনজীবী তানজীব-উল-আলম বলেছেন, “সংবিধানেই বলা আছে, আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বা আদালতে হাজির করতে হবে। এই যে একটি মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি সংবিধানে আছে। সকল আইন সংবিধানের আলোকে করতে হয়। ফলে আটকে কোন ব্যক্তিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করবে না, এমন কোন বাংলাদেশে নেই।”

র‍্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান অবশ্য কাউকে আটকে ক্ষেত্রে আইন অনুসরণের দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, আইন মানা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতে যেতে পারেন। পুলিশের উর্ধ্বতন অন্য কর্মকর্তারাও একই ধরণের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

তবে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নূর খান লিটন মনে করেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ভয় কাজ করে। ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা এমন বিষয় নিয়ে কখনও চ্যালেঞ্জ করতে চায় না।