গাড়ির অস্বচ্ছ কাঁচ নিয়ে বিড়ম্বনায় ঢাকার মানুষ

  • ১০ মে ২০১৪
Image caption গাড়ির জানালায় অস্বচ্ছ কাঁচ ব্যবহার করা যাবে না

বাংলাদেশে অপহরণ এবং গুপ্ত খুনের মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ গাড়ীর জানালায় অস্বচ্ছ কাঁচ বদলে স্বচ্ছ কাঁচ বসানোর যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন, তা শেষ হয়ে যাচ্ছে আজ শনিবার।

এধরণের গাড়ীতে করেই লোকজনকে অপহরণের ঘটনা ঘটছে এমন উদ্বেগ থেকেই কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ জারি করে।

আগামীকাল ১১ ই মে থেকে মাইক্রোবাসে অথবা অন্যান্য ছোট গাড়ির কাঁচে কালো অথবা রঙিন অথবা মার্কারি রঙ কিংবা অস্বচ্ছ কাঁচ দেখলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ফলে শনিবার ঢাকায় অনেককেই শেষ মূহুর্তে তাড়াহুড়া করে গাড়ির কাঁচ বদলাতে দেখা যায়।

গ্যারাজে ব্যস্ততা

ঢাকার ব্যস্ত সড়ক বাংলা মোটরের দুই পাশেই গাড়ি মেরামত ও ডেকোরেশনের প্রায় একশ দোকানে গত কয়েকদিন ধরে তুমুল ব্যস্ততা চলছে। এখানেই নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির কাঁচের মার্কারি রঙ তুলতে এসছেন প্রকৌশলী কাজী সাকলাইন।

“কালো গ্লাস রোদের তাপ থেকে রক্ষা করে, সেজন্যই লাগানো হয়েছিল। কিন্তু সরকারী সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই, জনস্বার্থে আমি নিজের গাড়ির কাঁচের রঙ তুলে ফেলছি।”

Image caption শেষ মূহুর্তে কাঁচ বদলাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন মানুষ

“কিন্তু শুধু পাবলিকের গাড়ির রঙ বদলালেই হবে না, সরকারী বড় কর্তাদের অনেকের গাড়িতে কালো কাঁচ আছে, সেগুলোও যেন বদলানো হয়।”

কাঁচের মার্কারি রঙ তুলতে মি. সাকলাইনের খরচ পড়ছে, প্রায় পাঁচশ’ টাকার মত। আর যারা গাড়ির টিনটেড কাঁচ বা ফিল্ম, পলিথিন বা প্লাস্টিক জাতীয় কৃত্রিম আবরন তুলবেন, তাদেরও এরকমই খরচ পড়বে। তবে, যারা গাড়ির কাঁচ পরিবর্তন করবেন, তাদের জন্য খরচের হারটি ন্যুনতম পাঁচ হাজার টাকা, আর মডেল বিশেষে সেটি চল্লিশ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।

বিক্রেতারা বলছেন খুবই স্বল্প সময়ের সময়-সীমা থাকায় বাজারে সাদা ও স্বচ্ছ গ্লাসের চাহিদা বেড়ে গেছে অনেক বেশী। আর অনেক ক্ষেত্রে চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা, বলছেন, বাংলামোটরের একজন বিক্রেতা।

“চাহিদা বেশি তো তাই কাঁচের সাপ্লাই শেষ হয়ে গেছে। এখন আজ যেমন মাত্র একটা গাড়ির কাঁচ লাগিয়েছি।”

“এমনিতে এখানে কালো কাঁচের চাহিদা বেশি, ফলে আমরা সেই অনুযায়ী আমদানি করি। স্বচ্ছ কাঁচের চাহিদা তো কম ছিল। এখন হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় আমরা চাহিদা মেটাতে হিমসিম খাচ্ছি।”

কঠোর পদক্ষেপ

তবে, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে প্রচলিত মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী আগে থেকেই গাড়িতে রঙিন কাচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে, এবার আইনটি অনুসরণে সরকার কঠোর হবে।

আর আইন অমান্য করলে বিধি মোতাবেক শাস্তি ও জরিমানা করা হবে গাড়ির মালিককে, জানাচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মীর রেজাউল আলম।

“প্রচলিত মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী জরিমানা হবে। এছাড়া প্রয়োজনে আমরা হয়ত গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করতে পারি। এছাড়া গাড়ির মালিক ও চালককে সতর্ক করে দেয়া হবে। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

দেশে অপহরণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মাইক্রোবাসে ও ব্যাক্তিগত ব্যবহারের গাড়িতে রঙিন কাঁচ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এতে বলা হয়েছে ১০ ই মে’র পর বিল্ট ইন ছাড়া সকল গাড়ির জানালায় আলাদাভাবে লাগানো রঙিন, কালো, মার্কারি, টিনটেড, অস্বচ্ছ, ফিল্ম, পলিথিন বা প্লাস্টিক জাতীয় কৃত্রিম আবরণ থাকলে রোববারের পর ওইসব গাড়ির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে, যেসব গাড়ির সামনের উইন্ডশিল্ড, দুই পাশ্বের জানালা ও পিছনের কাঁচ বিল্ট-ইন অর্থাৎ ফ্যাক্টরিতে নির্মিত অবস্থায় সংযোজন করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না।

এই আইন কার্যকর হলে অপহরণের পরিমাণ কমে আসবে বলে মনে করেন আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।