বাংলাদেশে মেঘনায় লঞ্চডুবিতে নিহত ২২, বহু নিখোঁজ

ছবির কপিরাইট Getty
Image caption বাংলাদেশের নদীপথে লঞ্চডুবিতে এর আগেও শত শত যাত্রী মারা গেছেন

বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জের কাছে মেঘনা নদীতে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত ২২ জন যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত মরদেহের ১৫জনের পরিচয় পা্ওয়া গেছে এবং ১২ জনের মরদেহ তাদের স্বজনেরা নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদদাতা।

দুশোর বেশি যাত্রী নিয়ে এম ভি মিরাজ-৪ নামের লঞ্চটি বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা থেকে শরিয়তপুরের সুরেশ্বরে যাচ্ছিল।

মুন্সীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বিবিসিকে জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে লঞ্চটি ঝড়ের কবলে পড়ে মেঘনায় ডুবে যায়। মুন্সীগঞ্জ ঘাট থেকে আধা কিলোমটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption নিখোঁজ যাত্রীদের অপেক্ষায় মেঘনার তীরে শত শত মানুষ

ডুবে যাওয়া লঞ্চটির কিছু যাত্রী সাঁতরে তীরে চলে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু বহু যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

একটি উদ্ধারকারি জাহাজ ‘প্রত্যয়’ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃহস্পতিবার।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় একজন সাংবাদিক মীর নাসিরউদ্দীন উজ্জ্বল জানান, শত শত মানুষ নদীতীরে ভিড় করেছেন তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে।

তিনি জানান, লঞ্চটি মধ্য মেঘনায় নয়, নদীতীর থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে ডুবেছে। কিন্তু সেখানে পানির গভীরতা প্রায় তিরিশ-চল্লিশ মিটার। ফলে সেটিকে উদ্ধারে রাতের বেলা তৎপরতা শুরু করা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, প্রায় চল্লিশ জনের মতো যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই যাত্রীদের বরাত দিয়ে মীর নাসিরউদ্দীন উজ্জ্বল জানান, ঝড়ের কবলে পড়ার পর অন্যান্য নৌযান যখন পার্শ্ববর্তী খালে গিয়ে অপেক্ষা করছিল। কিন্তু এমভি মিরাজ-৪ এর চালক তা না করে ঝড়ের মধ্যেই নদীপথে লঞ্চ চালাচ্ছিলেন। এর ফলেই লঞ্চটি ডুবে যায় বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।

যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেন যে লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার আগে প্রায় পনের মিনিট কাত হয়ে ছিল। যে যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে তীরে আসতে সক্ষম হয়েছেন, তারা এই সময়টাতেই লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন।

যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী লঞ্চটিতে কমপক্ষে আড়াইশো যাত্রী ছিল। উদ্ধারকারীরা আশংকা করছেন, লঞ্চের ভেতরে আটকে পড়ে থাকা যাত্রীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম।

মীর নাসিরউদ্দীন উজ্জ্বল জানান, বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, লঞ্চটির চালকের অদক্ষতাও এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। কারণ ঝড়টি খুব দুর্বল হওয়ার পরও এই সামান্য ঝড়েই লঞ্চটি ডুবে যায়।