মুসলমান যুবককে হত্যার দায়ে ১৭ জন গ্রেফতার

  • ৫ জুন ২০১৪
পুণায় পুলিশ প্রহরা
সাম্প্রদায়িক উত্তজনার জেরে পুণায় পুলিশ প্রহরা

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে এক মুসলমান যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশ উগ্র হিন্দুত্ববাদী এক সংগঠনের ১৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার পুণা শহরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মাঝেই নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময়ে ঐ যুবক উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

ঐ শহরে গত কয়েকদিনে প্রায় ২০০ বাস ও গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশী।

পুণার পুলিশ বিবিসিকে বলেছে যে মুহম্মদ সাদিক শেখ নামের ২৮ বছরের ওই যুবক যখন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার মধ্যে দিয়েই সোমবার নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই হিন্দু রাষ্ট্র সেনা নামের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির কিছু সদস্য তাঁকে আক্রমণ করে।

মি. শেখকে লাঠি আর লোহার রড দিয়ে মারা হয়। পুলিশ পৌঁছলে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতালে মি. শেখের মৃত্যু হয়।

তারপরেই ১৭জনকে ওই হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত বাস

একই সঙ্গে পুলিশ বলেছে যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মোট দুশোরও বেশী লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১৭শ শতকের মারাঠী বীর ও রাজা শিবাজী এবং আরেকটি হিন্দুত্ববাদী দল শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরের ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে দেওয়ার কারণে পুণায় রবিবার থেকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।

মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাটিল জানিয়েছেন, নিহত সাদিক শেখ কোনওভাবেই শিবাজী আর বাল ঠাকরের ছবি বিকৃত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। তিনি নিরীহ ব্যক্তি। এটি পরিষ্কারভাবেই ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হত্যা।

এই গ্রেপ্তারের পরে পুণা থেকে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি সংসদ সদস্য অনিল শিরোলে মন্তব্য করেছেন, যেভাবে শিবাজী ও বাল ঠাকরের বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিক্রিয়াতেই এটা ঘটেছে।

তবে সাদিক শেখকে পিটিয়ে হত্যা করা যে অনুচিত, সেটাও জুড়ে দিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা।