গ্রামীণ ইন্টারনেট সেবার জন্য পুরস্কার পেল বাংলাদেশ

  • ১০ জুন ২০১৪

গ্রামীণ এলাকায় তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের জন্যে আন্তর্জাতিক এক পুরষ্কার পেয়েছে বাংলাদেশ।

দেশটির সাড়ে চার হাজারের মতো ইউনিয়নের লাখ লাখ মানুষের কাছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্যে জাতিসংঘের একটি সংস্থা- ইন্টারন্যাশনাল টেলিকম ইউনিয়ন- আই.টি.ইউ বাংলাদেশকে সরকারকে এই সম্মান দিয়েছে।

জেনেভায় আজ তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিভিন্ন খাতে মোট দশটি দেশকে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের হয়ে এই পুরষ্কার গ্রহণ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ এখন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি বিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পারছেন। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

হাতের কাছে তথ্যসেবা

দেশের উত্তরে কুড়িগ্রাম জেলায় ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরের একটি ইউনিয়ন হাতিয়া। কৃষি বিষয়ক নানা তথ্য আর পরামর্শের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবাকেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত কৃষক বাবর আলীর।

জমির রেকর্ড নষ্ট হলে বা হারিয়ে গেলে সেটা সংগ্রহের জন্য বাবর আলীর মতো কৃষকদের আগে উপজেলা এবং জেলা শহরে ছুটতে হতো। এখন সেই রেকর্ড ইউনিয়নে সেবাকেন্দ্র থেকেই সহজে পাওয়া যায়। সেটাকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন বাবর আলী।

তিনি বলেছেন, “জমির পর্চা বা রেকর্ড পাওয়ার জন্য এখন তথ্য সেবা কেন্দ্রে আবেদন করলেই সহজে তা পাওয়া যায়।”

দক্ষিণ-পশ্চিমে যশোরের আরোপপুর ইউনিয়নের হেনা বেগমের স্বামী থাকেন মালয়েশিয়ায়। ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্র থেকে অল্প খরচে স্কাইপের মাধ্যমে হেনা বেগম এখন নিয়মিত স্বামীর সাথে কথা বলেন। তার মতে, তাঁর স্বামী বিদেশে থাকলেও দূরত্ব যেনো থাকছে না।

তিনি বলেছেন, “তথ্য সেবাকেন্দ্রের কম্পিউটারে স্কাইপের মাধ্যমে এখন আমি ছেলে মেয়ে নিয়ে মালয়েশিয়ায় স্বামীর সাথে কথা বলি। তাকে দেখা যায়। মনে হয়, একবারে আমরা মুখোমুখি বাড়িতে বসে কথা বলছি।”

ইউনিয়ন পরিষদের এই তথ্য সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য স্থানীয় শিক্ষিত একজন পুরুষ এবং একজন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যশোরের আরোপপুর ইউনিয়ন তথ্য সেবাকেন্দ্রের উদ্যোক্তা মো: আরিফুজ্জামান বলছিলেন, কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পাসপোর্টের ফরম পূরণ করাসহ মানুষের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজ তারা করে থাকেন।

ইন্টারনেটের ধীরগতি

কুড়িগ্রামের হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মনে করেন, তথ্য সেবাকেন্দ্রের ব্যাপারে মানুষ এখন আগ্রহী হচ্ছে। কিন্তু সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থাকছে।তিনি বলছিলেন, “ইন্টারনেটের গতি খুব ধীর। এছাড়া গ্রামে বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এসব সমস্যার কারণে সেবা সব সময় সঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব হয় না।”

ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান । তিনি মনে করেন, এখন তথ্য সেবাকেন্দ্রগুলোর কাজের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাগুলো থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি বলছিলেন, “তথ্য সেবা কেন্দ্রের বিষয়টি শুভ বা ভাল উদ্যোগ।এখনও এটা প্রকল্প পর্যায়ে রয়েছে।কিন্তু এতে কর্মরতদের কারিগরি দক্ষতার অভাব আছে।এছাড়া বড় বিষয় হচ্ছে,এসব সেবাকেন্দ্রের অংশীদারিত্বটা ইউনিয়ন পরিষদে সেভাবে হয়নি। অর্থ্যাৎ নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের এর সাথে সম্পৃক্ততা খুব দূর্বল।ফলে এর প্রতি দায়বদ্ধতা সেভাবে তৈরি হয়নি।”

দেশে সাড় চার হাজারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি উপজেলা-জেলা পরিষদগুলোতেও তথ্য সেবা কেন্দ্র বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে।