বিপিএল ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে আশরাফুল আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ

বিপিএল ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে আশরাফুল আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য বিপিএলের দ্বিতীয় আসর বিতর্কিত [ফাইল ফটো]

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে আট বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে তাঁকে ১০ লাখ টাকাও জরিমানা করা হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের লু ভিনসেন্ট তিন বছর ও শ্রীলংকার কৌশাল লুকোয়ারাচ্চি আঠারো মাসের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন।

এদের মধ্যে কেবল মোহাম্মদ আশরাফুলই ম্যাচ পাতানোর স্বীকারোক্তি দিয়েছিলেন।

সব ধরনের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ড থেকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মালিক শিহাব চৌধুরী। সেইসাথে তাকে বিশ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির শুনানি শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন আজ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে।

বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম বলেন, ক্রিকেটার আশরাফুলের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর চারটি অভিযোগে শাস্তি হয়েছে। আট বছরের জন্য তাকে যে কোন ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে একই সাথে বলা হয়েছে আশরফুলের শাস্তির মেয়াদ পাঁচ বছর পর পরবর্তী তিন বছর সাসপেন্ডেড বা স্থগিত হয়ে যাবে যদি তিনি বিসিবি, আইসিসি কিংবা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের দূর্নীতি বিরোধী শিক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মকান্ডে অংশ নেন।

২০১৩ মওসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল এ ম্যাচ পাতানোর দায়ে বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুলসহ অভিযুক্ত হয়েছিলেন মোট দশ জন। ক্রিকেটার মাহবুবুল আলম রবিন, মোশারফ হোসেন রুবেল এবং ইংল্যান্ডের ড্যারেন স্টিভেন্স, সহকারী কোচ মোহাম্মদ রফিক, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরি এবং ঐ ফ্রাঞ্চাইজের সি ই ও গৌরব রাওয়াত। তারা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।

মি: ইসলাম জানিয়েছেন, সাজাপ্রাপ্তরা আগামী ২১ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

এ বছরের ১৯শে জানুয়ারি থেকে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ ফিক্সিংয়ে অভিযুক্তদের দ্বিতীয় দফায় শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি খাদেমুল ইসলামের নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেয়।

সেই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আইন বিভাগের প্রধান ইয়ান হিগিন্স, প্রধান আইন কর্মকর্তা শেলি ক্লার্কসহ আইসিসি'র অন্য কর্মকর্তারা।