সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইয়াঙ্গুন-ঢাকা ঐকমত্য

bgb ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীদের গুলিতে বিজিবির এক সদস্যের মৃত্যুতে বান্দরবানে উত্তেজনা (ফাইল ফটো)

মিয়ানমারে এক বৈঠক থেকে ফিরে বাংলাদেশে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবির প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মাঠ পর্যায়ে লিঁয়াজো অফিসের মাধ্যমে যোগাযোগ বাড়ানোর ব্যাপারে মিয়ানমারের প্রস্তাবে বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন দিয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার চীনের সাথে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা যেভাবে করছে, সেটাকেই তারা মডেল হিসেবে বাংলাদেশের কাছে প্রস্তাব করেছে। বাংলাদেশ তা সমর্থন করেছে।

“বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখন প্রচলিত আছে, এই মডেলকেই আমরা প্রস্তাবনা হিসেবে মিয়ানমারের কাছে তুলে ধরেছিলাম। মিয়ানমার আরেকটা প্রস্তাব দিয়েছে। যেটা তারা ইতিমধ্যে চীন এবং থাইল্যান্ডের সাথে সীমান্তে চালু করেছে। একই প্রস্তাব তারা ভারতকে দিলে ভারত তাতে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে। আমাদেরকেও মিয়ানমার ঐ একই মডেল প্রস্তাব করেছে। আমরাও নৈতিক সমর্থন দিয়েছি।”

সম্প্রতি সীমান্তে উত্তেজনায় বিজিবির একজন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমারের নেপিডোতে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয়। এই প্রথম দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে বৈঠক হল বলে বিজিবির কর্মকর্তারা বলেছেন।

২৮শে মের ঘটনার পর বিজিবি প্রধান বিবিসিকে বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের কোন কাঠামো নেই বলে পরিস্থিতি অনেকসময় বিপজ্জনক মোড় নেয়।

জে আহমেদ জানান মিয়ানমার তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশের সাথে সীমান্ত এলাকায় একটি লিঁয়াজো অফিস খুলবে।

এই লিঁয়াজো অফিসের অধীনে মিয়ানমারে অবৈধ মাদকসহ বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে কয়েকটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। সেখানে টাস্কফোর্সের কাজের জন্য নয়টি বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে।

এরমধ্যে মুল বিষয়গুলো হচ্ছে, সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র পাচার বন্ধ করা, মাদক এবং মানব পাচার বন্ধ করা ।

জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, বর্তমান মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর পর্যায়ে কোন সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করলে জবাব পেতে অনেক সময় লাগে।

তিনি জানান, মিয়ানমার তাদেরকে বলেছে মংডুতে লিঁয়াজো অফিস করলে সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধি থাকবে। ফলে স্থানীয়ভাবেই অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে এবং সীমান্তে কোন উত্তেজনা দেখা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ হবে।

নেপিডোর বৈঠকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ,অস্ত্র এবং ইয়াবাসহ অবৈধ মাদক পাচারের বিষয়কে বড় সমস্যা হিসেবে বাংলাদেশ তুলে ধরেছিল।

অন্যদিকে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদী রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) বাংলাদেশের ভেতরে তৎপর।

বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, তিনি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং মিয়ানমারকে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশে কোনোভাবেই অন্য কোন দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেয়না।

জে আহমেদ বলেন, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ শুরু হল। এর ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রধান ডিসেম্বরে ঢাকায় বৈঠকের জন্য আসতে পারেন।