বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভর্তুকি হ্রাসের প্রক্রিয়া শুরু

  • ২ জুলাই ২০১৪
বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকি দেওয়াটা ঠিক নয় বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন

বাংলাদেশ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা এবং কয়লা ভিত্তিক উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভর্তুকি কমিয়ে আনার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর একটা উপায়ের উপর নির্ভর করে ভর্তুকি কমানো হলে গ্রাহকদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভর্তুকি দেওয়াটা ঠিক নয়। বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ সকলকে দিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

অনেকদিন ধরেই সরকারের পক্ষ থেকে এই ভর্তুকি কমিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছিল। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সেজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে নিয়ে তারা এগুচ্ছেন।

“প্রথমত পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে, সেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকীকরণ করার কাজ হাতে নিয়েছি। বিদ্যুতের দামেরও সমন্বয় করতে হবে। এসব করেই ভর্তুকি কমানো হবে।”

যদিও সরকার ভর্তুকি কমিয়ে আনার কথা বলছে, কিন্তু চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে সাত হাজার দু’শ কোটি টাকা - যা গত বছরের তুলনায় এক হাজার কোটি টাকা বেশি।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের গত পাঁচ বছরে তেল ভিত্তিক কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানো হয়েছে, যেগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ এখন মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ। আর এই তেলের জন্যই বেশি ভর্তুকি দেওয়া হয় বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ছয় থেকে চৌদ্দ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও গ্রাহকদের কম দামে দেওয়ার কারণে ভর্তুকির অর্থ বেশি গুণতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী বিষয়ে একটি সাময়িকীর সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন মনে করেন, ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়কে একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ গ্রাহকদের উপর।

সরকার অবশ্য বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানী হিসেবে তেলের ব্যবহার কমিয়ে কয়লার উপর জোর দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এরপরও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রশ্ন আসবে।

পোশাক শিল্পের একটি সংগঠন বিকিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মনে করেন, বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে না থাকলে শিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আরও কয়েক বছর সময় প্রয়োজন।

সরকার অবশ্য বলছে, এই সময়ের সাথে সমন্বয় করেই ভর্তুকি কমিয়ে আনা হবে।