ইরাকের সরকারি বাহিনীর সদস্যদের তথ্য নিয়ে ডাটাবেজ তৈরি করছে আইসিস

  • ৪ জুলাই ২০১৪
ইরাকের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে নিয়েছে আইসিস জঙ্গিরা

ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ আইসিস ইরাকের সরকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সকল তথ্য নিয়ে একটি ডাটাবেজ তৈরি করছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।

ইরাকে জিহাদী গ্রুপ আইসিস দেশটির বেশ কয়েকটি শহর দখল করে নিয়েছে, এবং সেখানকার অনেক মানুষ অব্যাহত লড়োইয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইসিসের যোদ্ধারা মসুল শহর দখলের পর সুন্নী অধ্যুষিত নয় এমন অঞ্চলগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

কুর্দিদের একটি শরণার্থী শিবির থেকে মসুল শহরের সাবেক নেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ আইসিস দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তাদের যেন সহজেই চিহ্নিত করা যায় সেজন্য একটি ডাটাবেজও তৈরি করছে তারা।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, সেস কর্মকর্তা ও সেনাদের আইসিসের সামনে হাজির করা হবে এবং আইসিসের জারি করা ইসলামি শাসন মেনে নিতে বাধ্য করা হবে, নতুবা তাদের শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

গত এক মাসে ইরাকের মসুল, তিকরিতসহ দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে নেয় আইসিসের জঙ্গিরা। এর ফলে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।

জাতিসংঘ ও ইরাক সরকারের তথ্যমতে, জুন মাসেই অন্তত ২৪৬১ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

কুর্দি নিয়ন্ত্রিত শহর সিনজারে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীরা জানাচ্ছে, যে শহর এবং গ্রাম থেকে তারা পালিয়ে এসেছে সেগুলো ধারাবাহিকভাবেই আইসিসের জঙ্গিরা দখল করে নিচ্ছে। শিয়া, ক্রিশ্চিয়ান এবং কুর্দিরা ঘরবাড়ি হারাচ্ছে।

মসুল থেকে পালিয়ে আসা কুর্দি নেতা বাশার আল খালিকি বলছেন যে, আইসিসের তালিকাভুক্ত সরকারি বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যদি তাদের খিলাফত শাসন না মানে তাহলে তাদের হত্যা করা হবে। এমনকি মসুলে এমন অনেক কর্মকর্তা নিখোঁজও হয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইসলামি জঙ্গি গ্রুপ আইসিস সিরিয়া ও ইরাকে খিলাফত শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।