কটূক্তির অভিযোগ ষড়যন্ত্রঃ শিক্ষকের পরিবার

  • ৪ জুলাই ২০১৪
Image copyright facebook
Image caption গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক রাজীব হাসনাত

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটুক্তির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের পরিবার পুরো বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলে বর্ণনা করেছে।

নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব হাসনাত শাকিলকে গতকাল বৃহস্পতিবার এই অভিযোগে খুলনায় গ্রেফতার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব তদন্তেও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি, তারপরও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

শিক্ষক রাজীব হাসনাত শাকিলের বিরুদ্ধে প্রথমে অভিযোগটি তোলেন তারই একজন ছাত্র । তিনি স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করেন যে গত জানুয়ারী মাসে তিনি শ্রেনীকক্ষে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান , বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ‘কটুক্তি’ করেছেন ।

নর্দান বিশ্ববিদ্যোলয়ের খুলনা ক্যাম্পাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ার করিম বিবিসিকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেন নি । কিন্তু কয়েকজন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার খবর শুনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজে উদ্যোগী হয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে । সেখানে শিক্ষক মি: শাকিলের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন অধ্যাপক করিম ।

পুলিশও বলছে যে তাদের কাছে সরাসরি কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি । কয়েকটি পত্রিকায় সংশ্লিষ্ট ছাত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে । এরপর পুলিশ গতকাল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে এবং পরে বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটক করে ।

যে ছাত্র অভিযোগটি তুলেছে সেই ছাত্র এখন খুলনায় নেই বলেও জানায় পুলিশ। অভিযোগকারী ছাত্র খুলনায় আসলে তাকে জিজ্ঞাসবাদ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলা হবে বলেও জানান খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ আহমেদ। এখনও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি বলেও জানিয়েছেন সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ।

তাহলে পুলিশ সেই শিক্ষককে কেন গ্রেফতার করেছে? মি: আহমেদ বলেন , “যেহেতু বিষয়টা খুলনার স্থানীয় পত্রিকাসহ সারাদেশে প্রচার হয়েছে , সেজন্য ক্যাম্পাসের ভিতকার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করেছি । নইলে মারাত্নক কোন অঘটন ঘটতে পারতো।”

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাবী করছেন প্রাথমিকভাবে ঘটনার বিষয়ে সতত্যা পাওয়া যাওয়ায় সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা নেয়া হয়েছে । কোন ধরনের অডিও, ভিডিও কিংবা অন্য কোন প্রমাণ না থাকলেও কিভাবে সেই সতত্যা পাওয়া গেলো সেটির কোন ব্যাখা দিতে পারছেনা পুলিশ ।

কিন্তু নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলনা ক্যাম্পাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যাপক করিম বিবিসিকে বলেন , “ এটা একটা ষড়যন্ত্র । বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির কাছে কোন ছাত্র-ছাত্রী এ কথা বলেনি যে শাকিল সাহেব এ ধরনের কথা ক্লাসে বলেছেন । তিনি কোন অন্যায় করেন নি। আমাদের তদন্তে আমরা কিছু পাইনি। ”

এদিকে গ্রেফতার হওয়া শিক্ষক মি: শাকিলের স্ত্রী ইসরাত জাহান লিনাও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে বর্ণনা করছেন ।

ইসরাত জাহান লিনা বলেন , “ আপনারা প্রত্যেক শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন সে এ ধরনের কোন কথা বলেছে কিনা? কোন তদন্ত ছাড়াই একজন স্টুডেন্টের কথার ভিত্তিতে পুলিশ কিভাবে তাকে গ্রেফতার করলো? ”

কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনে শিক্ষক মি: শাকিলকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবারই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।