বিসিবির নির্দেশে ঢাকা ফিরে এলেন সাকিব

  • ৬ জুলাই ২০১৪
ছবির কপিরাইট no credit
Image caption বার বার বিতর্কের কেন্দ্রে সাকিব

বাংলাদেশ দলে না খেলার হুমকি দেয়ার কথিত অভিযোগের পর বিসিবির ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়ার মুখে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।

ঢাকায় ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সাকিব তাঁকে ঘিরে বিতর্কের ব্যাপারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

“আমি বিতর্কে আসতে চাই না। কোন তর্ক-বিতর্কে থাকতে চাই না। চাই ক্রিকেট খেলতে। কারণ এটা আমার সবচেয়ে বড় প্যাশন। ক্রিকেট আমার ভালো লাগে। ক্রিকেট না খেললে আমার পক্ষে চলা খুবই কষ্টের একটা বিষয়।”

বোর্ডের অনুমতি না নিয়েই ক্যারিবিয়ান লীগে খেলতে রওনা হওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন সাকিব। তিনি দাবি করেন যে তিনি মৌখিক অনুমতি নিয়েছেন।

“আমি বোর্ডে গিয়েছি, এনওসির ব্যাপারে কথা বলেছি। সুজন ভাই, আকরাম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি প্রশিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলেছি। তাকে জানিয়েছি, আমি পরদিন চলে যাচ্ছি, তাই আর ট্রেনিং করবো না। ও বলেছে, ঠিক আছে।”

উল্লেখ্য, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলতে দেওয়া না হলে সাকিব আল হাসান জাতীয় দলেও না খেলার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছিল। বিসিবি বলছে জাতীয় দলের নব-নিযুক্ত কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে একটি ই-মেইল বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া

সাকিব আল হাসানের এই ঘটনায় বিসিবি ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় শনিবার। আচরণবিধি লংঘন করা হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন বিসিবির কর্মকর্তারা।

বিসিবির মুখপাত্র জালাল ইউনুসের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ৩০শে জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ফিরে এসে সাকিবকে দলের অনুশীলনে যোগ দিতে বলেন বাংলাদেশ দলের কোচ। কিন্তু সাকিব তাতে রাজী হয়নি বলে তারা জানতে পেরেছেন।

“সে ওখানে টি-টোয়েন্টি খেলতে যাচ্ছে, তাই তাকে বলা হয়েছিল তুমি আগেই ফিরে এসে লংগার ভার্সনের খেলার জন্য প্রস্তুতি নাও। তখন খুব সম্ভবত সে জবাব দিয়েছিল আমি টি-টোয়েন্টিই খেলতে পছন্দ করি, লংগার ভার্সন খেলার দরকার নেই। এমনটাই আমরা শুনেছি।” বলেন মি. ইউনুস।

গত বুধবার ক্যারিবিয়ানের বারবেডোজের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন সাকিব আল হাসান। তবে বিদেশী লিগে খেলার জন্য ক্রিকেট বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়াই সেখানে রওনা হন বলে বিসিবি জানায়।

সেখান থেকেই তাকে ডেকে পাঠায় বিসিবি। যদিও যাবার আগে তিনি বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান আকরাম খানের মৌখিক অনুমতি নিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।

তবে বিসিবি মুখপাত্র মি. ইউনুস বলছেন, বিদেশী লিগে খেলতে যাবার জন্য মৌখিক অনুমতি যথেষ্ট নয়।

“এই অনুমতিটা নিতে হবে সিইও-র কাছ থেকে। অনাপত্তিপত্র নিয়ে যাবার জন্য তাকে দু’দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সে অপেক্ষা না করে সেদিনই ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।”

এদিকে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, কোন খেলোয়াড় যদি এধরণের আচরণ করে থাকেন, তবে তাকে জাতীয় দলে খেলানোর বিষয়েও তাদের ভাবতে হবে।

“সব বেনিফিট নিয়ে যদি দেশের চাইতে বিদেশের খেলা তাদের কাছে প্রাধান্য পায়, তাহলে এসব খেলোয়াড়ের পেছনে পয়সা নষ্ট করা ঠিক কীনা তা আমাদের ভাবতে হবে।” বলেন মি. হাসান।

বিসিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সাকিব আল হাসানের বিষয়ে তারা তাদের আগামী ৭ই জুলাই তাদের বৈঠকে আলোচনা করবেন। সাকিব যদি আচরণবিধি লংঘন করে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বিসিবির মুখপাত্র।