ভারতে মদ খেয়ে ধরা পড়েছেন ৯৯ পাইলট

  • ২২ জুলাই ২০১৪
বিমানের ককপিট ছবির কপিরাইট AP
Image caption বিমানের ককপিট

গত তিন বছরে ভারতে অন্তত ৯৯ জন পাইলট বিমান নিয়ে ওড়ার আগে মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়েছেন বলে সরকার জাতীয় সংসদে জানিয়েছে।

বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জিএম সিদ্ধেশ্বর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বলেছেন, র‍্যান্ডম বা আচমকা চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে এই পাইলটদের শরীরে অ্যালকোহলের পরিমাণ সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ছিল। ফলে তাদের আর বিমান নিয়ে উড়তে দেওয়া হয়নি।

ভারতে পাইলটদের সমিতি এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ভারতের পার্লামেন্টে যে লোকসভা সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে, তিনি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।

তাঁর বাবা তথা দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক মাধবরাও সিন্ধিয়ার মৃত্যু হয়েছিল বিমান-দুর্ঘটনাতেই। ফলে বিমান পরিবহনে সুরক্ষা নিশ্চিত করাটা মি. সিন্ধিয়ার জন্য একটা প্যাশনই বলা যায়।

তাঁর উত্থাপিত প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়েই ভারতের বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী জিএম সিদ্ধেশ্বর জানিয়েছেন, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত র‍্যান্ডম টেস্টে মোট ৯৯জন পাইলট মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়েছেন।

তবে চলতি বছরে সংখ্যাটা অবশ্য কমতির দিকে – কারণ ২০১৪ সালের প্রথম ছমাসে ধরা-পড়া মাতাল পাইলটের সংখ্যা মাত্র ১০জন।

বিমান পরিবহন খাতে ভারতের সুপরিচিত বিশেষজ্ঞ কপিল কাউল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ভারতের এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য এটা একটা পুরনো রোগ।

তিনি বলেন, ''এটা পরিষ্কার সুরক্ষাবিধির লঙ্ঘন। তবে এই সমস্যা নতুন নয়, প্রি-ফ্লাইট চেকে পাইলটদের দেহে অ্যালকোহল পাওয়ার ঘটনা অনেকদিন ধরেই ঘটছে। এই সমস্যার মোকাবিলার দায়িত্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ আর এয়ারলাইনগুলো – উভয়েরই।''

''আর কোনও একটা বিশেষ একটা এয়ারলাইন্সের নয়, এই সমস্যা প্রায় সবারই। এবং আরও কড়া সুরক্ষাবিধি ও আরও কড়া নজরদারিই এর প্রতিকারের একমাত্র রাস্তা।''

কোন কোন এয়ারলাইন্সের কতজন পাইলট মাতাল অবস্থায় ধরা পড়েছেন, সে ব্যাপারে সরকার অবশ্য সংসদে কোনও তথ্য জানায়নি।

যেহেতু কোনও সংস্থার নাম করা হয়নি, তাই ভারতের কোনও এয়ারলাইন্সও এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট অ্যাসোসিয়েশনও জানিয়েছে তাদের এই মুহুর্তে নতুন করে কিছু বলার নেই।

তবে সংসদে দেওয়া সরকারের এই তথ্য ভারতে বিমান পরিবহনের সুরক্ষা নিয়ে যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তাতে কোনও সংশয় নেই।

কপিল কাউল, যিনি নিজে এক সময় পাইলট ছিলেন, তার কাছে আমি জানতে চেয়েছিলাম ভারতে এই মুহুর্তে ভারতে প্রি-ফ্লাইট সেফটি টেস্ট কীভাবে করা হয়?

তিনি বলছিলেন, প্রতিটি বিমান ওড়ার আগে পাইলটদের ওপর এই পরীক্ষা চালানোটা এয়ারলাইন্সের দায়িত্ব। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-র পক্ষে প্রতিটি উড়ানের আগে, প্রত্যেক পাইলেটর ওপর পরীক্ষা চালানো একরকম অসম্ভব – ফলে তারা মাঝে মাঝে এরকম আচমকা র‍্যান্ডম টেস্ট চালায়।

''পৃথিবীর কোথাওই নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষে সব ফ্লাইটে এমন পরীক্ষা চালানো সম্ভব নয় – ফলে শেষ পর্যন্ত এয়ারলাইন্সের ওপরই দায়িত্বটা বর্তায়।''

তবে ভারতের সাধারণ বিমানযাত্রীদের দুশ্চিন্তার বিষয় হল, যদি র‍্যান্ডম টেস্টেই প্রায় শখানেক মাতাল পাইলট ধরা পড়ে থাকেন – তাহলে আসলে অবস্থাটা আরও কত শোচনীয় ও বিপজ্জনক।

এ বছরের গোড়াতেই আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিমান পরিহন খাতে ভারতের সুরক্ষা রেটিং এক ধাপ নামিয়ে দিয়েছে।

তারপর এই ধরনের তথ্য যে ভারতকে মোটেই সাহায্য করবে না বিশেষজ্ঞরা এখন থেকেই সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিচ্ছেন।