শুটিংএ বাকির রূপো জয়ে উচ্ছ্বসিত বাংলাদেশ দল

  • ২৬ জুলাই ২০১৪
bd commonwealth games ছবির কপিরাইট BSF
Image caption আবদুল্লাহেল বাকি

শুক্রবার কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল শুটিংএ আব্দুল্লাহ বাকির রৌপ্যপদক জয়ের সাফল্যে বাংলাদেশ দল যেভাবে আবেগ উচ্ছ্বাসে ভেসেছে, ডান্ডির কাছে ব্যারি বাডন শুটিং সেন্টারে অনেক দর্শক তা উপভোগ করেছেন।

সেন্টারের চত্বরে কোলাকুলি থেকে শুরু করে দলে দলে ছবি তোলার পালা চলেছে অনেকক্ষণ।

আগের দিন টেবিল টেনিস দলের সাথে দলের ম্যানেজার ছাড়া কারোরই টিকিটিও দেখা যায়নি। ট্র্যাক সাইক্লিং এ বাংলাদেশ কত নম্বরে শেষ করেছে, অনেক রাতে সেটাও দলের ম্যানেজার ঠিক করে বলতে পারেননি।

কিন্তু শুক্রবার স্ত্রী-সহ দলের শেফ দ্য মিশন এবং তার সাথে একদল কর্মকর্তা সাতসকালে একশ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হাজির হয়েছিলেন ব্যারি বাডনে। তারা জানতেন যদি কোন পদক আসে এবারের কমনওয়েলথ গেমসে, আব্দুল্লাহ বাকিই হয়ত তা আনবেন।

তারপরও ভরসা করতে পারছিলেন না তারা। বাকি যখন ফাইনাল রাউন্ড খেলছিলেন, বাংলাদেশের কর্মকর্তা এবং শুটিং দলের অন্যরা পুরোটা সময় কেমন যেন শক্ত হয়ে ছিলেন। আসলে সাফল্যের অভ্যাস না থাকলে হয়ত ভরসাও কমে যায়।

খেলা শেষ হলে তাদের চোখমুখ দেখে মনে হয়েছে, বুক থেকে যেন একটা বড় পাথর যেন নেমে গেছে। এখন অন্তত একটা কিছু নিয়ে তারা দেশে ফিরতে পারবেন।

বড় বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহ কম নয়। ফেডারেশনগুলো দেনদরবার করতে থাকে তাদের যেন জায়গা হয়।

ছবির কপিরাইট BSF
Image caption দলের সাথে আবদুল্লাহেল বাকি

ইংরিজি 'বি' অক্ষর দিয়ে নাম শুরুর কারণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মার্চ পাস্টে বাংলাদেশ প্রথম দিকেই থাকে। তারপর প্রতিযোগিতা শুরু হলে আর কোন খবর থাকেনা। অধিকাংশ সময়েই খালি হাতে দেশ ফিরতে হয়।

জিজ্ঞেস করলে কর্মকর্তারা বলছেন, দেখুন পয়সা নেই, পৃষ্ঠপোষকতা নেই, কি করে হবে।

সমস্যা হচ্ছে, সাফল্য না দেখালে পৃষ্ঠপোষকতা আসেনা। আবার পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে খেলাধুলোর ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন কঠিন। এটা একটা চক্রের মত।

তারপর রয়েছে, নোংরা ফেডারেশন রাজনীতি। ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার গেমসের সোনার পর শুটিংএ একটা রূপা পেতেও এত বছর কেন লাগলো? শুটিং ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি বলার চেষ্টা করলেন, গত বছরগুলোতে কর্মকর্তাদের চেষ্টায় ঘাটতি ছিল।

বাকি খুব ভালো খেলেছেন। বেশ কয়েকটি শটে সর্বোচ্চ স্কোর করেছেন। ভারতের যে শুটার সোনা জিতেছেন, অভিনব বিন্দ্রা, তিনি অত্যন্ত ধনী ঘরের সন্তান। নিজেই নাকি তিনজন ট্রেইনার রেখেছেন। তাকেও ভয়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন বাকি।

খেলার পর অন্যান্য দলের বেশ কজন কর্মকর্তা এসে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

পদকে জেতার পরপরই আবদুল্লাহ বাকিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এখন টার্গেট কি? বললেন, অলিম্পিকে কিছু করতে চান।

প্রতিভা প্রমাণ করেছেন তিনি। বিকাশ অনেকটাই নির্ভর করবে সৎ পৃষ্ঠপোষকতার ওপর।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য