গাযায় কাঁচা বাজারে ইসরায়েলি হামলায় ১৭জন নিহত

  • ৩০ জুলাই ২০১৪
ছবির কপিরাইট AP
Image caption গাযার কাঁচা বাজারে ইসরায়েলি গোলা বর্ষণের পর ধোঁয়া উঠছে।

গাযায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবার বিকেলে শুজায়া এলাকায় একটি শাক-সবজি এবং ফলমূলের বাজারে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত: ১৭জন নিহত এবং ১৬০জন আহত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন শত শত লোক তখন ঐ বাজারে কেনা-কাটা করছিলেন।

ইসরায়েলের ডাকা চার ঘণ্টার অস্ত্র বিরতির মাঝে এই আক্রমণ ঘটে। তবে গাযায় ক্ষমতাসীন ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এই অস্ত্র বিরতি প্রত্যাখ্যান করেছিল।

ফিলিস্তিনি ডাক্তাররা বলছেন, গাযার দক্ষিণে খান ইউনুস উদ্বাস্তু শিবিরে আরেক ইসরায়েলি হামলায় সাতজন নিহত হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, গাযায় সংঘর্ষে তাদের তিনজন সৈন্য নিহত হয়েছে।

গাযায় একটি স্কুলের আশ্রয় শিবিরে ইসরায়েলি ট্যাংক হামলাকে জাতিসংঘ ‘ধিক্কারজনক’ বলে বর্ণনা করেছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption জাবালিয়ার স্কুলের আক্রমণে আহত শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছে।

গাযায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বুধবার জাতিসংঘ-পরিচালিত একটি স্কুলে ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলাবর্ষণে অন্তত: ১৫জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৯০জন আহত হয়েছে।

জাতিসংঘ ত্রাণ সংস্থা ‘আনরো’-র মুখপাত্র ক্রিস গানেস বলেছেন, শিশুদেরকে ঘুমের মাঝে হত্যা করা হয়েছে।

“বাচ্চারা তাদের মা-বাবার সাথে জাতিসংঘ-নির্ধারিত আশ্রয় কেন্দ্রের ক্লাসরুমের মেঝেতে ঘুমচ্ছিল। বাচ্চারা ঘুমের মধ্যে নিহত হয়েছে", মি: গানেস বিবিসিকে বলেন।

“এটা নিশ্চয়ই আমাদের সবার জন্য অপমানজনক, সার্বজনীন লজ্জার বিষয়, আজ গোটা বিশ্ব ধিক্কারের মুখে,” তিনি বলেন।

গাযায় জাতিসংঘের কার্যক্রমের পরিচালক বব টার্নার বিবিসিকে বলেছেন, এই স্কুল যে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটা ইসরায়েলিদের জানিয়ে দেবার পরও কয়েকবার সেখানে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।

মি: টার্নার বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা অফিসাররা স্কুলে যেসব গোলা আঘাত হেনেছে, সেগুলোর অবশিষ্ট টুকরোগুলো বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়েছে যে ইসরায়েলিরাই হামলা চালিয়েছিল।

জাবালিয়া উদ্বাস্তু শিবিরে অবস্থিত আবু হোসেন স্কুলে প্রায় ৩,০০০ ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছে।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে তারা ঘটনাটা তদন্ত করে দেখবে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই মাসের ৮ তারিখে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত: ১,৩০০জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক লোকজন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের ৫৬জন সৈন্য আর তিনজন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে যাদের মধ্যে একজন থাই নাগরিক।

আমেরিকার মধ্যস্থতায় এবং মিশরিয় সহায়তায় যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।

গাযায় ক্ষমতাসীন হামাস সংগঠন বলছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে গাযার চতুর্দিকে অবরোধ তুলে নিতে হবে, যে অবরোধ প্রায় আট বছর ধরে চলছে।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption গাযার শুজায়া এলাকার বাজারে ইসরায়েলি হামলায় প্রচুর হতাহত হয়।

অন্যদিকে, ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধবিরতি হলেও তারা হামাস-এর রকেট আক্রমণ বন্ধ আর সুড়ঙ্গপথ ধ্বংস করে দেওয়ার অভিযানের চালিয়ে যাবে।

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে কায়রোতে ফিলিস্তিনি নানা পক্ষের বৈঠকের আগ মুহূর্তে ইসরাইলের সাথে কোন ধরনের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছেন হামাসের সামরিক বিভাগের কমান্ডার।

একটি বেশ কঠোর বার্তায় মোহাম্মদ দিইফ বলেন, তার যোদ্ধারা মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত।

"ইসরাইলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং ফিলিস্তিনি সীমান্তে ইসরাইলি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে," তিনি বলেন।

সোমবার ঈদের দিন কিছু সময় বিরতি দেবার পর গভীর রাত থেকে পুনরায় ব্যাপক হামলা শুরু হয়ে।

স্থল, আকাশ এবং নৌযান থেকে আক্রমণে ১০০রও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে , যার মধ্যে অন্তত সাতটি পরিবার রয়েছে যাদের সবাই মারা গেছেন।

গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও আক্রান্ত হবার পর বন্ধ হয়ে গেছে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption গাযার কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, ইসরাইলিদেরকে একটি দীর্ঘ অভিযানের জন্য তৈরি হতে হবে।

ইসরায়েলের একজন সামরিক মুখপাত্র বলেছেন, এই আক্রমণগুলো হামাসের উপর চাপ ক্রমশ: বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইসরায়েলি হামলায় হামাস-পরিচালিত টেলিভিশন এবং রেডিও স্টেশন, তিনটি মসজিদ, চারটি কারখানা এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সহ কয়েকটি সরকারী ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে গাযার সামুদ্রিক বন্দর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘে কর্মরত লোকজনরে মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা র মুখপাত্র ক্রিস গানেস টুইটারে জানিয়েছেন, তাদের কয়েকজন কর্মী নিহত হবার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জাতিসংঘ গাযায় ৮২টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় দু’লক্ষ ফিলিস্তিনির দেখা-শোনা করছে।