হাস্যোজ্জল সেলফি দিয়ে তুরস্কে নারীদের অভিনব প্রতিবাদ

  • ৩০ জুলাই ২০১৪
ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption তুর্কী লেখক এজে টেমেলকুরান: উপ-প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য 'আপত্তিকর'।

গত কয়েক দিন হলো, তুরস্কের শত শত নারী নিজেদের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি সামাজিক মিডিয়া আপলোড করছেন। কিন্তু কেন?

নারীদের জনসমক্ষে হাসা উচিত না। এই কথা বলেছেন তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ট আরিঞ্চ।

সোমবার এক ভাষণে দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে ‘নৈতিক অধঃপতন’ নিয়ে মন্তব্য করেন।

“সতীত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ,” মি: আরিঞ্চ বলেন।

“নারীরা জনসমক্ষে হাসবেন না”।

উপ-প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তুরস্কে নারীদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

হাজার হাজার নারী টুইটার এবং ইন্সটাগ্রামের মত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি আপলোড করেছেন।

এই বিষয়ে প্রায় তিন লক্ষ টুইট করা হয়েছে, যেখানে ‘কাহকাহা’ বা তুর্কী ভাষায় হাসি, টপিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ব্যঙ্গাত্মক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন #হাসিঠেকাও বা #নারীঠেকাও।

ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption হাজাল নাজ বেসলেইজি

অনেকে মন্তব্য করেছেন যে, নারীকে জনসমক্ষে হাসা থেকে বিরত করার চেষ্টা না করে সরকারের উচিত ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া।

লেখক এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার এজে টেমেলকুরান, টুইটারে যার ১০ লক্ষাধিক ফলোয়ার আছে, উপ-প্রধানমন্ত্রীর কথাকে ‘ভীষণ আপত্তিকর এক মন্তব্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

মিস টেমেলকুরান নিজের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি টুইটারে আপলোড করে অন্যান্য নারীদেরও তাই করার জন্য আহ্বান জানান।

“আমার টুইটার টাইমলাইন নারীদের হাস্যোজ্জল মুখের ছবিতে ভরে গিয়েছে, যা অসাধারণ এবং খুবই সুন্দর মনে হচ্ছে,” মিস টেমেলকুরান বলেন।

ছবি শেয়ার করার এ্যাপ ইন্সটাগ্রামেও একই দৃশ্য।

ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শত শত নারীর হাস্যোজ্জল মুখের ছবি

ইন্সটাগ্রামে নিজের হাস্যোজ্জল মুখের ছবি আপলোড করে ২৩-বছর বয়স্ক হাজাল নাজ বেসলেইজি বললেন তিনি নিজেকে মুক্ত মনে করছেন।

“আমি হাসবো নাকি হাসবো না, সেটা আমার সিদ্ধান্ত,” মিস বেসলেইজি বলেন।

“আমার জীবনে নাক গলানো তাদের উচিত না”।

অনেক পুরুষও উপ-প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ট আরিঞ্চ-এর সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন।

তুরস্কের নাম করা টেলিভিশন উপস্থাপক ফাতিহ পোরটাকাল টুইটারে আশা প্রকাশ করেন যে, এই সবই ঠাট্টা-বাজি ছিল।

“নারীরা যদি প্রকাশ্যে হাসতে না পারে, তাহলে পুরুষদের উচিত হবে না প্রকাশ্যে কাঁদা,” মি: পোরটাকাল বলেন।

মি: পোরটাকালের মন্তব্য ছিল সরাসরি উপ-প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে, যাকে প্রায়ই তাঁর নেতা প্রধানমন্ত্রী রেজেপ তাইপ এরডোয়ান-এর ভাষণের সময় কাঁদতে দেখা যায়।