ধূমকেতুর কক্ষপথে প্রবেশ করেছে মহাকাশযান রোসেটা

  • ৬ অগাস্ট ২০১৪
Image copyright ESA Rosetta MPS for OSIRIS Team
Image caption পৃথিবী থেকে ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরে ধূমকেতু চুরিমফ-গেরাসিমিয়েঙ্কো।

পৃথিবী থেকে ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরের একটি ধূমকেতুকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণের চেষ্টায় বড় সাফল্য পেয়েছে একটি ইউরোপীয় মহাকাশ যান।

রোসেটা নামের এই যানটির লক্ষ্য হচ্ছে আগামী এক বছর ধরে ধূমকেতুটিকে প্রদক্ষিণ করা এবং সেখানে একটি ল্যান্ডার অবতরণযান পাঠিয়ে তার উপাদানগুলো পরীক্ষা করা।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন , পৃথিবীতে প্রাণের উৎস যে কার্বন এবং পানি, তা এই ধূমকেতু থেকেই এসেছিল কিনা - সেটা এই পরীক্ষাগুলো থেকে জানা যেতে পারে।

ঐতিহাসিক এই মহাকাশ গবেষণার কাজ চলবে পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০ কোটি কিলোমিটার দূরে।

ধূমকেতুতে মহাকাশযান পাঠানোর আগের মিশনগুলো পুরোপুরি সফল না হওয়ার কারণে এবারের মিশনের সফলতা নিয়ে উৎকণ্ঠা ছিল।

Image copyright BBC World Service
Image caption মহাকাশযান রোসেটার যাত্রাপথ

কিন্তু এবারের মিশেনের সাফল্য হল - রোসেটা মহাকাশযান এখন চুরিমফ-গেরাসিমিয়েঙ্কো নামের একটি ধূমকেতুর পাশে নিজেকে এমনভাবে স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে যাতে ধূমকেতুর কক্ষপথে এটি পাশাপাশি প্রদক্ষিণ করতে পারবে।

মিশনের সাবেক ম্যানেজার গেরহার্ড শোয়েহেম্ ১৯৮০-র দশকে এই প্রকল্পের একেবারে শুরুর সময় থেকে এর সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলছেন, রোসেটার সঙ্গে ধূমকেতুর যুক্ত হওয়াটা মিশন সার্থক হবার দিন।

“আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে এটা আমাদের একটা স্বপ্ন ছিল। এখন আমরা বিজ্ঞানের একটা স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে পা রেখেছি,” তিনি বলেন।

মানব ইতিহাসে ধূমকেতু একটা বিস্ময়ের বস্তু।

Image copyright BBC World Service
Image caption লন্ডনের সাথে ধূমকেতুর আয়োতনের তুলনা।

ধূমকেতু রাতের আকাশকে আলোকিত ক'রে একদিকে যেমন মানুষের মনে একটা মোহজাল তৈরি করেছে, তেমনি এই ধূমকেতু নিয়ে রয়েছে নানা ধরণের শঙ্কা।

ধূমকেতুর গতি এবং পৃথিবী থেকে এর দূরত্বের কারণে এই ধূমকেতু নিয়ে গবেষণার কাজও বিজ্ঞানীদের জন্য কঠিন হয়েই থেকেছে।

অনেকদিন থেকে বিজ্ঞানীদের এক অংশ মনে করেন পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য যে জল, কার্বন ও অন্যান্য উপাদানের প্রয়োজন তা এসেছে ধূমকেতু থেকে।

এর আগের মিশনগুলোতে যে মহাকাশযান পাঠানো হয়েছে সেগুলো ধূমকেতুর গতিপথের কাছ দিয়ে দ্রুত পার হয়ে গেছে।

শুধুমাত্র ধূলিকণার নমুনা এবং কিছু তথ্য সংগ্রহ ছাড়া ওই মিশনে আর কিছু অর্জন সক্ষম হয় নি।

Image copyright BBC World Service
Image caption ধূমকেতু চুরিমফ-গেরাসিমিয়েঙ্কো-র আয়োতন

এবারে রোসেটা নির্দিষ্ট একটি ধূমকেতু, বিজ্ঞানীদের কাছে যার সংক্ষিপ্ত নাম 67P, তার কক্ষপথে ঘুরবে এক বছরের ওপর।

বিজ্ঞানীদের আশা, রোসেটা সংগ্রহ করবে নজিরবিহীন সব তথ্য। স্পেনে ইউরোপীয় স্পেস অ্যাস্ট্রনমি সেন্টারের গবেষক অধ্যাপক আলভারো গিমেনেয বলছেন, এই গবেষণা একেবারে মৌলিক।

“আমরা এমন জায়গায় যাব যেখানে আগে কখনও যাওয়া যায় নি," তিনি বলেন।

"সৌরজগতের সৃষ্টি সম্পর্কে , পৃথিবীতে পানির উৎস এবং পৃথিবীর জটিল অণুপরমাণুর উৎস সম্পর্কে আমাদের মনে যেসব প্রশ্ন রয়েছে তার উত্তর আমরা খুঁজতে চাই,” তিনি বলেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সবকিছু যদি পরিকল্পনা মাফিক চলে, তাহলে নভেম্বর নাগাদ তারা রোসেটাকে ফিরিয়ে আনতে মহাশূন্যে একটি অবতরণযান পাঠাবেন।

প্রাচীন মিশরের সাংকেতিক লিপি 'হায়রোগ্লিফিকস্'-এর জনক রোসেটা স্টোনের নামে এই মহাকাশ গবেষণাযানের নাম দেওয়া হয়েছে 'রোসেটা'।

ধূমকেতু যেহেতু সৌরজগতের একেবারে আদিপর্বের অবশিষ্ট অংশ তাই আশা করা হচ্ছে রোসেটার এই গবেষণা থেকে বেরিয়ে আসবে কীভাবে সৌরজগত সৃষ্টি হয়েছিল এবং পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির সঙ্গে ধূমকেতুর কোনো যোগাযোগ আছে কিনা।